মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসের মহত্তম অধ্যায় হলেও তা যে-ভাবে উপেক্ষিত হয়েছে তার তুলনা বিরল। এই উপেক্ষা এতোটাই উৎকট ও সর্বব্যাপী যে এ নিয়ে বিশদ আলোচনার প্রয়োজন পড়ে না। তবে এর সবচেয়ে বড়ো উদাহরণ হতে পারে স্বাধীনতার দীর্ঘ তিনযুগ পরেও মুক্তিযুদ্ধের মীমাংসিত বিষয় নিয়ে নিত্যনতুন বিতর্কের অবতারণা ও পরিকল্পিত মিথ্যাচার। এই মিথ্যাচার, বিতর্ক বা কুতর্কের কলুষ থেকে মুক্তিযুদ্ধ-সম্পর্কিত কোন কিছুই রক্ষা পায় নি। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি এ চরম অবজ্ঞা ও অমর্যাদার দায়ভার কেউই এড়াতে পারবেন বলে মনে হয় না। তবে এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক ও আত্মবিনাশী ভূমিকাটি নিঃসন্দেহে আমাদের রাষ্ট্রের; আরও স্পষ্ট করে বললে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অবৈধ দখলদারদের। বস্তুত ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যার মধ্য দিয়ে অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলকারীরাই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক ভূমিকা পালন করে আসছে। ফলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস এবং তার মূল নেতৃত্বকে অস্বীকার করার মতো অবিশ্বাস্য ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ ঘটনাও এখানে ঘটে চলেছে অব্যাহতভাবে। একদিকে বাঙালির সুদীর্ঘ মুক্তি সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম মুছে ফেলার চেষ্টা চালানো হচ্ছে, অন্যদিকে চলছে সেই সময়ের মেজর পদমর্যাদার একজন সেক্টর কমান্ডারকে তাঁর প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়