প্রকৃতিগতভাবে পুরুষের তুলনায় নারীর শারীরিক গঠন এবং মানসিক গড়ন একটু আলাদা। নারীর শরীরে এমন কিছু অঙ্গ প্রত্যঙ্গ আছে, যা পুরুষের নেই, তাই তাদের রোগশোকও একটু আলাদা হবে এটাই স্বাভাবিক। উভয়ের শরীরে হরমোনের মধ্যে রয়েছে এক বিরাট পার্থক্য। শৈশব-কৈশোর, সন্তান ধারণকাল, রজঃনিবৃত্তি—নারীর জীবনের ত্রিকাল। বয়ঃসন্ধির পর থেকে ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়া পর্যন্ত—বেশ কিছু রোগ শুধু নারীদেরই হয় যা পুরুষদের হয় না। গর্ভধারণ ও তার জটিলতা মেয়েদের সুস্বাস্থ্যের সবচেয়ে বড় অন্তরায়। কিন্তু একটু সচেতন হলেই এসব জটিলতা থেকে সহজে মুক্তি পাওয়া যায়।
আমাদের দেশের নারীরা অনেক ক্ষেত্রেই অবহেলিত। অসুখ-বিসুখের ক্ষেত্রে তো আরো বেশি। গ্রামে-গঞ্জে, পুরুষরা সাধারণত ডাক্তারের কাছে আসেন রোগের শুরুতে, আর নারীরা আসেন রোগের শেষ অবস্থায়। বাংলাদেশের মতো দেশে এরকম বইয়ের বিশেষ প্রয়োজন। কেননা, নারীরা এখানে সামাজিকভাবে উপেক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি নিজেরাও নিজেদের রোগ-বালাই গোপন করে রাখেন। এই বইটি সব বয়সের নারীদের জন্য এমনকি পুরুষের জন্যও হতে পারে সমান পাঠ্য।
অধ্যাপক ড. ইকবাল কবীর শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত নারীর স্বাস্থ্য রক্ষার আদ্যোপান্ত তথ্যাদি তুলে এনেছেন সুখপাঠ্য এই বইয়ে।
—অধ্যাপক ডা. ফেরদৌসী বেগম