আমি বড় একা হয়ে গেলাম জয়ন্ত। বড় একা, একলা আমার চুল, দু'চোখ, চিবুক। কিছুই ভালো লাগে না। মাঝে মাঝে মনে হয় আমি একটা শব। সব দেখছি অপলক চোখে, কথা বলতে পারছি না। চিৎকার করছি, হে অর্বুদ মানুষ তোমরা বলো আমার জয়ন্ত কোথায়? যে যার কর্ম নিয়ে ছুটছে। আমার চিৎকার কারো কর্ণকুহরে পৌঁছাচ্ছে না। আমাকে ভস্মীভূত করে তুমি আজ যোজন দূরে। কতদূরে? বেদনার কুণ্ডলীতে আবর্তিত আমি। হাতড়ে বেড়াই অহর্নিশি তোমাকে, খুঁজে পাই না। বেদম কাঁপুনি, ঘূর্ণন তোলপাড়, চক্রাকারে আবর্তিত কাতরতা, বিলাপ, হাহাকার...
এই হচ্ছে জয়ন্তকে ঘিরে নীরুপমার দহন। 'নীরুপমার নীল চিঠি' উপন্যাসে পরিস্ফুটিত হয়েছে নীরুপমার মনোজগতের হরেক লাল-নীল স্বপ্ন, প্রেম-বিরহ, হারানোর গভীর দুঃখবোধ। এক বৈশাখের ঝড়ে কবলিত হয় ঢাকা টু বরিশালগামী স্টিমার রাজহংস। ঝড়ে বিধ্বস্ত রাজহংসে জয়ন্ত ছিল। জয়ন্তের মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি নীরুপমা। সে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ে। সাইক্রিয়াটিস্টের চিকিৎসায় তার যাপিত জীবন। একটার পর একটা চিঠি লিখে যায় জয়ন্তের গ্রাম রাংতাপুরের ঠিকানায়। চিঠির উত্তর আসে না। এরপর একদিন...
নীরুপমার জয়ন্তকে লেখা এক একটা চিঠিতে পরিস্ফুটিত হয়েছে, নাটোরের বধ্যভূমির করুণ ইতিহাস, অটিস্টিক শিশুদের যাপিত জীবন, পতিতা মায়ের শিশুকন্যাদের পুনর্বাসন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনে নারীদের ভূমিকা, পৌরাণিক কাহিনী, ফিসারের প্রেম ও যৌনতা, মান্তাসম্প্রদায়ের বৈচিত্র্যময় জীবন।
জয়ন্ত আর নীরুপমার কথোপকথনের স্মৃতিগুলো নীরুপমা একের পর এক চিঠিতে টেনে এনেছে। জয়ন্তকে ফিরে আসার জন্য চিঠিতে অনুরোধ করে। উপন্যাসের শেষে তার ঘটনাক্রমে সেন্স ফেরে। এটি একটি পরাবাস্তব কাহিনীও বটে...