'আমার চারপাশে চারটে নয়, একটামাত্র দেয়াল। আর দেয়ালটা দেখতে ঠিক-' ভাবতে গিয়ে ভীষণ ভাবনায় পড়ে যান কুসুম বেওয়া। নিজের ভেতরে ব্যাপারটা স্পষ্টরূপেই টের পান, অনুভব করেন, অনুভবের তাপ ও চাপে লীন হয়ে ওঠে তাঁর পাঁজর, মনের করোটি- কিন্তু ভাবনাটুকু ভাষায় ধরা দেয় না।
ভোর হয়ে আসছে। রাতের অন্ধকার এবং বৃষ্টি আরও একটু হালকা হওয়ার পর, ধূসর পরদাটুকুও একটু একটু করে সরে যায়। অচেনা একটা পাখি ডেকে ওঠে- পিউ! রাতের ছায়াচিত্র ও ভোরের আভাসটুকু কীভাবে বদলায় সেটা কুসুমের চোখ এড়ায় না। দরজার বাইরে, আশ্রমের লম্বা বারান্দায় কুসুম পায়চারি করছেন। গত শীতে তাঁর বয়স তেষট্টি পেরিয়েছে। সারারাত তিনি ঘুমুতে পারেননি। মনটা অস্থির হয়ে আছে।
ঘুমে চোখ এলিয়ে আসে ঠিকই, কিন্তু কিছুক্ষণ পরই ঘুম ছুটে যায়। তিনি হয়তো ঘুমানইনি, একটা ঘোরের মতোন অবসন্নতা পেয়েছিল। এমন হয়। কিন্তু তবুও, সেই ঘোরের ভেতরেই ইদানীং অদ্ভুত রকমের স্বপ্ন দেখেন। তখন তাঁর হৃদস্পন্দন বাড়তে থাকে।