নিজের ভাষায় মার্কেটিং প্ল্যান তৈরি করেছেন তৌফিকুর রহমান। তিনি জানেন কিভাবে নিজের লেখা অর্থহীন বা অর্থবোধকতা তৈরি করা যায়। তিনি নিজের লেখার অর্থবোধকতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
যে কথাকে কাজে লাগাতে চাও, তাকে কাজে লাগানোর কথা চিন্তা করার আগে ভাবো, তুমি কি সেই কথার জাদুতে আচ্ছন্ন হয়ে গেছ কিনা। তুমি যদি নিশ্চিত হও যে, তুমি কোনো মোহাচ্ছাদিত আবহে আবিষ্ট হয়ে অন্যের শেখানো বুলি আত্মস্থ করছো না, তাহলে তুমি নির্ভয়ে, নিশ্চিন্তে অগ্রসর হও। তুমি সেই কথাকে জানো, বুঝো, আত্মস্থ করো; মনে রাখবে, যা অনুসরণ করতে চলেছো, তা আগে অনুধাবন করা জরুরি; এখানে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হবার কোনো সুযোগ নেই।
বর্তমান যুগে ব্যবসায়িক পরিমন্ডলে অন্যতম আলোচিত শব্দ হল মার্কেটিং বা বাজারজাতকরণ। সাধারণ দৃষ্টিকোণে মূলত একটি পণ্যের উৎপাদন পরবর্তী সময় থেকে ভোক্তার হাত পর্যন্ত পৌঁছানোর মধ্যবর্তী সকল কর্মকাণ্ডই মার্কেটিং এর অন্তর্ভুক্ত।
বইটিতে বাজার গবেষণার বিভিন্ন ধাপ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
যেমন বইটিতে বলা হয়েছে যে বাজার গবেষণার প্রথম ধাপটিই হল কী কারণে গবেষণাটি করা হবে এবং কাদের উপরে বা কোথায় গবেষণাটি করা হবে তা চিহ্নিত করণ। সম্ভব্য কারণ সম্পর্কে একটা ধারণা পোষণ করা। মার্কেটিং সম্পর্কে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ন তথ্য এই বইটিতে লেখক উল্লেখ করেছেন্।
লেখক বইতে প্রচুর বাস্তবভিত্তিক এবং তার নিজস্ব অভিজ্ঞতালব্ধ উদাহরণ যােগ করেছেন। শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, মার্কেটিং ক্যারিয়ারে যুক্ত যে কারাে জন্য উদাহরণগুলাে খুবই সহায়ক। এখন তাে স্টার্টআপ এর যুগ চলছে। তরুণ উদ্যোক্তারা কিভাবে বাজারে নিজেদের পণ্য ও সেবা নিয়ে জায়গা করে নিবে তার জন্য এই বই বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম।
পাঠক এই বইটি পড়ে মার্কেটিং এর মৌলিক বিষয় সম্পর্কে সহজেই বুঝতে পারবে।
সিরিজের প্রথম বই নিজের ভাষায় মার্কেটিং এর পর পরিকল্পনা মত যখন নিজের ভাষায় ব্র্যান্ডিং নিয়ে কাজ শুরু হল তখন খোঁজাখুঁজি করে দেখা যে ব্র্যান্ডিং নিয়ে বাজারে বাংলা ভাষায় লেখা সহজলভ্য বইয়ের সংখ্যা আক্ষরিক অর্থেই শূন্য। অথচ ব্যাপারটা এমন নয় যে এদেশে ব্র্যান্ডিং নিয়ে কোন কাজ হচ্ছেনা বা ব্র্যান্ডিং আমাদের জানা প্রয়ােজন নেই। প্রয়ােজন পূরণের সঠিক উপায় জানা না থাকলে অনেক উপায়ে চেষ্টা করা হয়। অনেকটা ট্রায়াল অ্যান্ড এরর’ মডেল। অথচ চাকা নতুন করে আবিষ্কারের কিছু নেই। বড়জোর কিছুটা নতুনত্ব আনা যেতে পারে। কিন্তু মূলনীতি একই থাকে। ব্র্যান্ডিং এর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযােজ্য। যেকোনাে অভিনবত্ব ও নতুনত্ব আনার আগে ব্র্যান্ডিং এর মৌলিক ধারণা স্পষ্টভাবে জানা উচিত। এই বইতে সেই চেষ্টাই করা হয়েছে।