সূর্যের তাপে নেশা আছে। দোতলা বাড়ির টানা বারান্দায় বসে বসে এই সিদ্ধান্তে আসলেন নাজির মিঞা। দীর্ঘ সময় রোদে বসে থেকে থেকে একটা ঘোর ছড়িয়ে পড়ছে রক্তে। ঢুলু ঢুলু চোখে বাইরে তাকালেন। টিনের চালে ধাক্কা খেয়ে পিছলে সব রোেদ গিয়ে পড়ছে উঠোনে যেখানে শাড়ি মেলে দিচ্ছে তার কচি বউটা। চোখ-পোড়ানো রোদ আর কাঁচা হলুদ রঙয়ের শাড়ি সব মিলেমিশে এক হলুদ সমুদ্র হয়ে যাচ্ছে উঠোনটা।
এত কটকটে রঙ কেন শাড়িটার! অন্ধ করে দিচ্ছে চোখ দুটো। বউটার সোনার হাতে সোনার চুড়ি চমকে চমকে উঠছে রোদের আঁচড় লেগে। চোখদুটো পোড়াচ্ছে রঙটা। ক্যাটকেটে রঙ। ঝিম ধরে যাচ্ছে মাথায়। নাজির মিঞা তবু চোখ কুঁচকে তাকালেন ছোটবৌটার দিকে। ফুলের নামে নাম মেয়েটার- জবা। লাল টুকটুকে মুখটায় এত মায়া যে চোখ অবশ করা এই নীরস আলোর ভেতরও ফটে আছে ফলের মতো।