"নির্ভূম" বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা:
নানা কথা ভাবতে ভাবতে জালালের কানে অনেকগুলাে মানুষের চিঙ্কার ভেসে এল। সে তাড়াতাড়ি পেছন দিকে ঘুরে তাকাল, যেখান থেকে আওয়াজ আসছে। জালাল তাকাতে না তাকাতেই তার চোখের সামনে তাদের পেছনে থাকা নৌকাটা টুপ করে ডুবে গেল। জালালের মা চিৎকার দিয়ে উঠল, ও আল্লা, আল্লা গােতুমি রহম করাে..
মাঝি কিন্তু নির্বিকার রইল। নির্লিপ্তভাবে বলল, বেশি লােক তুলছিল। অনেকগুলাে মানুষের প্রাণ বাঁচানাের আকুতি চিৎকার হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে নাফ নদীর বুকে। মানুষগুলােকে বাঁচানাের কেউ নেই। চিকারগুলাে তাই তীব্র থেকে ক্ষীণ হতে হতে এক পর্যায়ে মিলিয়ে যায়। শান্ত নদীটা এত চেঁচামেচি পছন্দ করে না। মানুষগুলােকে সে টেনে নেয় নিজের বুকের ভেতরে। এক টুকরাে পাথরের মতাে মানুষগুলাে টুপ করে ডুবে যায়।
জালাল সেদিকে তাকিয়ে থাকে শূন্য দৃষ্টিতে। তার চোখে কোনাে অনুভূতি নেই। কোনাে কষ্ট হচ্ছে না তার। যেই ছেলেটাকে নিজের বাবাকে মরতে দেখেও একবারও ফিরে না তাকিয়ে হেঁটে চলে আসতে হয়, অন্যের মরণ দেখে তার মধ্যে কোনাে অনূভূতি কাজ করে না আর।