বি প্রোডাক্টিভ
ধরণিতে মানুষের আগমন আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে। আর প্রত্যেক প্রতিনিধির একান্ত কর্তব্য হলো মালিক কর্তৃক প্রদত্ত কাজ নির্ধারিত নিয়ম ও সময়ে সম্পাদন করা। হোক তা দ্বীনের কাজ বা রাষ্ট্রের; পারিবারিক কিংবা সামাজিক। কিন্তু আমরা এই মূলমন্ত্র ভুলে অলসতা-কর্মবিমুখতা ও বিলাসিতায় আজ মত্ত! লাগাতার বিশ্রাম আর অর্থহীন কর্ম আমাদের মূল্যবান সময়গুলোকে হাঙ্গরের মতো খেয়ে ফেলছে। অক্টোপাসের মতো জড়িয়ে ধরেছে আমাদের সকল কর্মোদ্যম ও স্পৃহাকে। ফলে হতাশার গহিন অন্ধকারে নিমজ্জিত হওয়া ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প থাকে না।
কিন্তু এভাবেই কি নিরুদ্দেশ যাত্রায় ভাসতে থাকবে আমাদের জীবন তরি? হতাশা ও জড়তার অন্ধকার ভেদ করে কখনোই কি আসবে না সম্ভাবনার সুবহে সাদিক?
জড়তার অন্ধকার ঠেলে সেই নতুন সূর্যের বারতা দিতেই আমাদের এবারের আয়োজন বি প্রোডাক্টিভ।
মেক টাইম : সময় পাই না রোগের ওষুধ
‘সময় পাই না’ রোগের একটা উদাহরণ দেখুন।
সকাল সকাল কাজে বসেছেন ইউনুস সাহেব। ফজরের নামাজ পড়েই। আজ প্রজেক্টের কাজটা শেষ করতেই হবে। ল্যাপটপ নিয়ে বসলেন। ইন্টারনেট কানেক্ট করলেন। কাজ শুরু করলেন।
একের পর এক নোটিফিকেশন আসতে লাগল। হোয়াটসঅ্যাপে বসের মেসেজ। বড়ভাই, বন্ধুর মেসেজ। একজন কী একটা লিংক পাঠাল। লিংকে ক্লিক করে দেখলেন একটা ফানি ভিডিও। সেই রিল থেকে আরেক রিল। এমন করে কিছুক্ষণ পর হুঁশ ফিরতেই মনে পড়ল একটা জরুরি ইমেইল আসার কথা। ইমেইলটা দেখতে গিয়ে একটা বিজ্ঞাপনের ইমেইলে চমৎকার একটা লেখা পড়লেন। ওখান থেকে তা তাকে নিয়ে গেল অনলাইন মার্কেটপ্লেসে।… দিনশেষে কাজ হলো লক্ষ্যমাত্রার ২০%।
হায়রে, এত জটিলতার ভেতর আমরা কাজ করব কীভাবে? না চাইতেও তো হারিয়ে যাই লিংক থেকে লিংকে। ইনবক্সে।
সমাধান হলো, মেক টাইম। সময় বানাতে হবে। এ ছাড়া আর গতি নেই।
সময় কীভাবে বানানো যায় তাই নিয়ে এই বই ‘মেক টাইম’
অলসতার বিরুদ্ধে লড়াই
অলসতা জীবনের শত্রু। অলসতা জীবন গঠনে হুমকিস্বরূপ। অলসতা জাতি গঠনে হুমকিস্বরূপ। অলসতা সমাজ বিনির্মাণে হুমকিস্বরূপ। অলসতা ধর্মীয় জীবনেরও প্রধান শত্রু।অলসতা আমাদের প্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মনোবল নষ্ট করে। সক্ষমতাগুলোকে অক্ষমতায় পরিণত করে। নিজের শক্তি ও সামর্থের উপর অবিশ্বাসি করে তোলে।জীবন চলার পথে যাদের দ্বারা আমরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হই— তাদের মধ্যে অলসতাও একটি। অলসতার কারণে, আমরা আমাদের লক্ষ্য থেকে ছিটকে পরি। উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে পরিণত করি। ইহকাল-পরকাল, উভয় জগতেই ক্ষতিগ্রস্ত হই। শুধু তাই নয়, অলসতার কারণে আমরা পদে পদে লাঞ্ছিত হই, অপদস্থ হই। অতঃপর, সুন্দর জীবন গঠনে ব্যর্থ হয়ে এমন অস্বাভাবিক জীবন-যাপন করি— যা নিয়ে আসে কেবল দুঃখ আর দুঃখ।