সেদিন ঘুম ভাঙল রাত তিনটায়। জেগে শুয়ে শুয়ে ডিমলাইটের সবুজ আলোয় ঘড়িতে টিক টিক করে বয়ে চলা সেকেন্ডের কাঁটাটার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে একসময় দেখি মিনিটের কাঁটাটাও ছয় এর দাগটা অতিক্রম করে গেছে। অকারণ উদাস হলো মন। পাশে একমাত্র পৌত্র ছয় বছরের আলিফকে জড়িয়ে নিয়ে অঘোরে ঘুমাচ্ছে স্ত্রী মিনবাবু। বয়ে চলা জীবনে কেউ ঘুমোয়, কেউ জেগে থাকে। সেটাই তো নিয়ম!
নিঃশব্দে দরজা খুলে বাইরে এসে দেখি, লিভিংরুমের সেন্টার টেবিলে থরে থরে সাজানো রয়েছে ধবধবে সাদা রঙের তিন সেট কাফনের কাপড়। ঘুমোতে যাবার আগে আমাদের পরম স্নেহের পুত্রবধূ, আমার পালকমাতাসম, সযত্নে সাজিয়ে রেখে গেছে আমার জন্য শুভ্রবসন, হজ্জের এহরাম।
আজ উনিশ ডিসেম্বর ২০০৬, আমাদের হজ্জে যাবার দিন। কাপড়গুলো থেকে এক টুকরো পরনে, আর একটা টুকরো গায়ে জড়িয়ে বিদায় নিতে হবে প্রিয়জনদের কাছ থেকে, ছেড়ে যেতে হবে সবকিছু!