'কী হলো? কথা কানে ঢোকে নি? এক কথা কতবার বলা লাগে? ঘটনা কী? উত্তর দিচ্ছিস না কেন?'
আমার সামনে দাঁড়ানো খেঁকুড়ে বুড়োটা আবারও ধমকে ওঠে আমাকে। এত কুৎসিত চেহারার মানুষও আছে দুনিয়ায়? কী বলা যায় মনে মনে হাতড়াই আমি। হাতড়েও লাভ নাই। কারণ ছবির দিকে যতবার তাকাব ভাবছি ততবারই তো নজর চলে যাচ্ছে ওর কুৎসিত চেহারার দিকে! ব্যাটার সুরূপ দেখেই কূল পাচ্ছি না, ছবি দেখব কখন?
ভুরু কুঁচকে উত্তরের অপেক্ষায় তাকিয়ে আছে বুড়ো আমার দিকে। বিটকেল লোকটার তীক্ষ্ণ অন্তর্ভেদী দৃষ্টির সামনে মিনমিন করি আমি, 'কী বলব?'
বাজখাঁই গলায় আবারও হুংকার ছাড়ে বুড়ো, 'সেটাও বলে দিতে হবে আমাকে? কালির বিদ্যা নাই পেটে?' কোথায় পড়ে ছিল খোদাই মালুম, বোঝাই যায় ব্যাটা খেঁকুড়ে কোথেকে কুড়িয়ে পেয়েছে কাগজটা! সেই প্রাচীন, ময়লা, স্যাঁতসেঁতে পচা কাগজে আঁকা একটা ছবি হাতে ঠায় দাঁড়িয়ে ব্যাটা ঘায়ের মাছি! নড়াচড়ার নাম নেই। ঘাড় ত্যাড়া নাছোড়বান্দা ফাটা রেকর্ডে সেই যে ঘ্যানারি শুরু করেছে-বিরাম বিশ্রামহীন চলছে তো চলছেই!