ধোঁয়াটে ‘আত্মা’ থেকে নয়, বরং কবিতা তার অন্তর্বলয়ের মোক্ষম ভাষাটি খুঁজে পায় কেবলই বোধসামুদ্রিক শব্দের স্বচ্ছন্দ প্রবাহের স্বতঃস্ফূর্তি থেকে, কবির তিনটি চোখের সম্মিলিত পর্যবেক্ষণের সারাৎসার হয়ে যা একাধারে দৃশ্যমানতা ও অদৃশ্যমানতাকে ধারণ করে তার একান্ত নিজস্ব নিপুণ কৌশলে, দৃশ্যত কখনো যা আটপৌরে বসন পরা, কখনো আবার গা-ভর্তি অলংকারের চোখ ঝলসানো সাজগোজে।
কবি কাদের পলাশের ‘অন্য করিডোরের ফুল’ সংকলনটি এমনই একজোড়া ও অনুসন্ধানী চোখের নজরকাড়া ভিন্ন ভিন্ন ৪২টি কথালিপি, যেখানে বোধের পারম্পর্য বজায় রেখে শব্দের স্বতঃস্ফূর্ত সীবনে কবিতার আত্মভাষার রচন।
এই কাব্যগ্রন্থে সংকলিত অধিকাংশ কবিতার সহজ-কথার কথায় অনেক চিত্রকল্প, অনেক তির্যকে অনেক ইঙ্গিত। সেসবের সবকিছুই বিষাদ-কবিতা হয়ে ওঠার শর্তবহ। ছত্রে ছত্রে নরত্বারোপের কুশলী সীবন এই কবির কবিতায় এক ভিন্ন ধরনের আলাপচারিতার মাত্রা আরোপ করে বৈকি! কবি কাদের পলাশ তাই বর্তমানের মাটিতে দাঁড়িয়েও ইতিহাসকে নিয়ে আসতে পারেন অতি অনায়াসে তাঁর কবিতার কেন্দ্রীয় ভাবনার অনুসারী করে। তিনি একজন সু-সাংবাদিক দর্শকমাত্র নন, নিবিড় পর্যবেক্ষক আগাপাশতলা। তাঁর নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণের হাত ধরেই ভবিষ্যতের ইতিহাস লেখা কাগজের কলামে কলামে।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস, কবি কাদের পলাশের অন্য করিডোরের ফুল কাব্যগ্রন্থখানি সংবেদনশীল পাঠকের কাছে গভীরতর জীবনবোধের অনবদ্য কিছু উপাদান জুগিয়ে অকৃত্রিম মান্যতা কুড়োবে অনায়াসে।
-সুভাষ সরকার