তিনি ধূতির ওপর খদ্দরের লং কোট পরে ছিলেন। তাঁর এখন আটান্ন বছর বয়েস, গত চল্লিশ বছর ধরে তিনি এই একই পোষাক পরে আসছেন। মাঝে বার সাতেক বিদেশ ঘুরে এসেছেন, তখন শীত নিবারণের জন্য উলের পোষাক পরিধান করতে হয়েছিল। তিনি প্রায় ছ' ফুটের কাছাকাছি লম্বা, শরীর এখনো ঋজু, মাথা ভর্তি চুল, সামান্যই পাক ধরেছে। প্রশস্ত কপাল, পুরু লেন্সের চশমা, ঠোঁটের ভঙ্গিতে একটু বক্রতা আছে, যাতে অহংকারীর ভাব আসে, কিন্তু তাঁর হাসিটি এখনো নির্মল। তাঁর নাম সত্যসুন্দর আচার্য। এটা তাঁর আসল নাম নয়, সন্ন্যাসীরা যেমন নাম বদলায় তিনিও তেমনি অনেকদিন আগেই নতুন নাম গ্রহণ করে পূর্বনাম বিস্মৃত হয়েছেন। তাঁর এক পিসীমা এখনো বেঁচে আছেন, একমাত্র তিনিই তাঁকে রাজু বলে ডাকেন।
তিনি গাড়ি থেকে নেমে লিফটের কাছে এসে দাঁড়ালেন। লিফট তখন ওপরে, আর অপেক্ষা না করে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে লাগলেন, ততক্ষণে একজন আর্দালি পাগলেরর মতন লিফটের বেল টিপছে। তিনি সটান উঠে এলেন তিন তলায়। তিন চারজন বেয়ারা-আর্দালি ব্যস্ত সমস্ত হয়ে তাঁর কামরার দরজা খুলে দিল সসম্ভ্রমে।