আমার দীর্ঘদিনের একটা স্বপ্ন আজ বাস্তবায়িত হলো এই গ্রন্থ প্রকাশের মধ্য দিয়ে। আজকের বাংলাদেশ প্রাচীনকালে যে-সকল ক্ষুদ্র-বৃহৎ ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত হয়েছিল এবং সে-যুগে অফুরন্ত প্রাণ-চাঞ্চল্যে ভরপুর, কর্মমুখর ও বিরুদ্ধ প্রকৃতির সঙ্গে প্রতিনিয়ত সংগ্রামশীল যে-সব মানুষ তখন এ-অঞ্চলে বসবাস করতো, তাদের একটা সংক্ষিপ্ত ফিরিস্তি তৈরি করার ইচ্ছে ছিল, আজ তা অনেকখানি পূর্ণ হলো। বলতে দ্বিধা নেই যে, আমার অপটু হাতের নিতান্ত এলেবেলে রূপ এ-গ্রন্থ। সুতরাং অপরিপক্ক জ্ঞান ও ভুল-ত্রুটির জন্যে আগেই পাঠক সাধারণের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। বাংলাদেশের কথা বলতে গিয়ে এখানে সঙ্গত কারণেই পশ্চিমবঙ্গ, মায় আসামের কথা পর্যন্ত চলে এসেছে। বস্তুত এর একটাই কারণ, তখন এগুলিও ছিল প্রাচীনবাংলার অন্তর্ভুক্ত। যাই হোক আমরা চেষ্টা করেছি প্রাচীনবাংলার অন্তর্গত বিভিন্ন ভূখণ্ড বা দেশজনপদের আলোচনাকালে আসল কথাটি যত দ্রুত সম্ভব বলে ফেলতে, এবং এজন্যে যেখান থেকে যতটুকু সাহায্য প্রয়োজন, বিশেষ করে সংস্কৃত, পালি ও প্রাকৃত ভাষায় রচিত প্রাচীন সাহিত্যগ্রন্থাদি যেমন বেদ, রামায়ণ, মহাভারত, বিভিন্ন পুরাণ, ত্রিপিটক, পালি জাতক গ্রন্থসমূহ, বৈয়াকরণিকদের রচিত ব্যাকরণ, কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র, বিদেশি বিশেষত গ্রিক ও রোমান লেখক- পণ্ডিতদের রচনা ইত্যাদি থেকে বেশুমার উদ্ধৃতি দিতে। নানা সময়ে আবিষ্কৃত ও প্রাপ্ত তাম্রপট্টোলি-অনুশাসন বা অভিলেখ, মুদ্রা, মুসলিম ঐতিহাসিকদের বিভিন্ন আকর-গ্রন্থ প্রভৃতির সাক্ষ্য যথাসম্ভব ব্যবহার করেছি আমাদের কথা ও বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে।