বর্তমান ও মধ্যযুগের ন্যায় প্রাচীনযুগেও রাজা-সম্রাটগণ গাদা গাদা জবরজং উপাধি, অভিধা, রাজকীয় প্রতীক প্রভৃতি গ্রহণ করতেন। কীর্তি-কর্মে রানিরাও কম যেতেন না। তাদেরও কারো কারোর চোটপাটে-হম্বিতম্বিতে সন্ত্রস্ত হয়ে উঠতেন স্বয়ং রাজা, তটস্থ হতো রাজ্য, রাজপাট। তাই দেখা যায়, বাংলার সেনবংশীয় রাজা লক্ষ্মণসেনের “বল্লভা” নাম্নী এক রানি এবং তার ভাই অর্থাৎ রাজার শ্যালকের কারণে এক প্রকার অতিষ্ঠ ও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল রাজার জীবন, মায় সভাসদদেরও কেউ কেউ শান্তি অন্বেষণে রাজ্য ত্যাগ করে অন্যত্র সরে পড়তে বাধ্য হয়েছিল।
বলাবাহুল্য, শুধু এসব ঐতিহাসিক বিবৃতিই এগ্রন্থে লিপিবদ্ধ হয়নি। গ্রন্থের সূচিদৃষ্টেই প্রতীয়মান হবে, প্রাচীনকালীন রাজতন্ত্রের স্বরূপ, রাজার কাজের ধরন ও পরিধি, উত্তরাধিকার-নির্বাচনের নিয়ম ও ব্যতিক্রম, রাজপ্রাসাদের মহিষী ও অন্তঃপুরচারীদের অবস্থান, ষড়যন্ত্র, রাজার ভূমিস্বতের অধিকার ও নিরঙ্কুশ ভূমিভোগের স্বরূপ এবং সেইসঙ্গে রাজদরবারের অমাত্য-মন্ত্রী প্রভৃতি, সম্ভ্রান্তশ্রেণি এবং সর্বোপরি পুরোহিত-যাজক প্রভৃতির ভূমিকা। ফলত সেযুগে এমনও দেখা গেছে যে, স্বয়ং রাজা গিয়ে রাজপুরোহিতের ডেরায় ধর্না দিচ্ছেন, পুরোহিত আসন না নিলে রাজা আসন গ্রহণ করছেন না। ফলত এরূপ নানা ঐতিহাসিক চিত্র-বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে এ-গ্রন্থে।