পড়ন্ত বিকাল। ভীষণ একটা সংকোচ নিয়ে আগাচ্ছি। জীবনের সবচেয়ে কাক্সিক্ষত মুহ‚র্তের সাক্ষী হতে যাচ্ছি। হাসপাতালের ভিআইপি কেবিনের সামনে অপেক্ষা করছি। বাইরে থেকে আমার নাম বললাম। ভেতর থেকে দুই মিনিট অপেক্ষা করতে বললেন। আমি অপেক্ষায় থাকলাম। দুই মিনিট যেন আমার কাছে দুই যুগ মনে হলো। কিছুক্ষণ পর কেবিনের দরজা খুলে দিলো রূপা আপা। আমি ভীষণ এক উত্তেজনা নিয়ে কেবিনে প্রবেশ করলাম। তারপর… তারপর আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ ইতিহাস রচিত হলো। দেখা পেলাম বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের সবচেয়ে স্বচ্ছ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, আপোসহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার। আমি যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম। আমার গলা দিয়ে কথা বের হচ্ছে না। আমাকে অবাক করে দিয়ে তিনি আমাকে ডাকলেন। জিজ্ঞাসা করলেন,
‘ছানি (উনি আমাকে ছানি ডেকেছিলেন) কেমন আছো?’
আমি উত্তর দিলাম। কিন্তু মনে হলো আমার গলা দিয়ে কথা বের হলো না। তারপর অল্পসময় কিছু কথা বলার সুযোগ হলো। আসার সময় তিনি আবার ডাকলেন।
বললেন,
‘ছানি, প্রাইভটে র্ভাসটিতিে পড়েছো। ওখানেই রাজনীতি করেছো, আন্দোলন-সংগ্রাম করেছো। এগুলো লিখে রাখো। ইতিহাসকে লিপিবদ্ধ রাখতে হয়।’
ওনার ঐ কথার শক্তিতেই আজ এই বইটা সম্পন্ন করতে পেরেছি। এই বইটা আমি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’র করকমলে উৎসর্গ করলাম।