অমর কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে সর্বদাই ছিলেন উচ্চকণ্ঠ। পরিণীতা নামের উপন্যাসে তিনি সাধারণ নর-নারীর প্রেমকাহিনির চমৎকার বর্ণনার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক বাস্তবতা এবং ধর্মীয় আবেগ ও জাতবৈষম্যকে তুলে এনেছেন নিপুণ দক্ষতায়। সংসারের বেড়াজালে আবদ্ধ একটি মেয়েকে অল্প বয়সেই সব বিষয়ে পরিপক্ব হয়ে উঠতে হয়। সাংসারিক আচার-আচরণ যেমন তাকে মেনে চলতে হয়, তেমনি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিও সজাগ থাকতে হয়। অথচ ছেলেদের বেলায় এসবের কিছু না হলেও চলে। উপন্যাসের নায়ক পরিণত-বয়সী শেখর সব বিষয়েই অপরিপক্ব, ভীরু ও কাপুরুষ। আর বালিকা ললিতা সব ব্যাপারেই সজাগ ও সাবধানী। ললিতাকে সর্বান্তঃকরণে ভালোবেসেও সাংসারিক ও সামাজিক কারণে তাকে ত্যাগ করতে এতটুকুও বাধেনি শেখরের। কিন্তু এক দিনের জন্যও সংসার না করা ললিতা খেলাচ্ছলে হওয়া বিয়েকেই নিজের নিয়তি মেনে সারা জীবন একা থাকার মতো সিদ্ধান্তে ছিল অটল। দৈবক্রমে উপন্যাসের শেষে এসে অবশ্য তাদের মিলন হয়, কিন্তু তাতে ললিতা বা শেখরের বলতে গেলে কোনো চেষ্টাই ছিল না। পরিণীতা একদিকে শরৎচন্দ্রের চিরাচরিত সামাজিক প্রতিবাদী উপন্যাস, অন্যদিকে প্রেমের উপন্যাসও।