তিনি ছিলেন 'দগ্ধশুক্র জাতক' খুব ছোটবেলায় পড়া একটি উপন্যাসের নায়কের বর্ণনা করেছেন লেখক এই বিশেষণ দিয়ে। গ্রামের হাইস্কুলে পড়ার সময় পুরনো খাতা-বই বিক্রি করতে গিয়ে হাতে এসেছিল উপন্যাসটি। কার লেখা মনে নেই। মনে নেই উপন্যাসের বিস্তৃত বিবরণ। শুধু অস্পষ্ট অভিঘাতের মতো বার বার নাড়া দিয়ে যায় সেই চরিত্রটি। ধনাঢ্য, সুদর্শন, ঘরে তার সুন্দর স্ত্রী। এক অপরিসীম সুখের সংসার হতে পারতো তার। তবু তিনি এক অনিবার্য আকর্ষণে হঠাৎ করে হারিয়ে যান।
এক অচেনা গ্রামের ঐতিহ্যমন্ডিত কোন মেলায় তাঁর রাত্রিবাস, সঙ্গী হয়তো কোন অচেনা নারী। তিনি ফেরাতে পারেন না নিজেকে এই মোহময় হাতছানি থেকে। এটাই তাঁর নিয়তি-তিনি যে দগ্ধশুক্র জাতক।রাশিফলের প্রতি বিশ্বাস নেই। কিন্তু এই কাল্পনিক চরিত্রের কুয়াশা ঘেরা আবহ কেমন যেন আচ্ছন্ন করে রাখতো আমাকে সেই ছোটবেলা থেকে। বোধকরি তারই ফলশ্রুতি আমার ছুটে বেড়ানো ফেরারী মন।