বইয়ের প্রতিটি পাতায় আছে মানুষকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলার এক প্রেরণা। শুধুমাত্র শান্তিতে জীবন পার করাই জীবনের স্বার্থকতা নয়। মানুষ তার নিজের ইচ্ছানুযায়ী চলবে, কিন্তু অপরের ইচ্ছা যখন তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, তখন ব্যক্তিস্বাধীনতা কোথায় আর থাকে? শাসক যখন হয় শুধুমাত্র শোষণের জন্য, তখন সেই শাসনরূপী শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পথের দাবীর দরকার অবশ্যই আছে।
কিন্তু পথের দাবীর এই পথচলা সহজ কেন হবে! জীবন যাত্রায় মানুষের পথচলার এই অধিকার যে কতখানি বিশাল, তা যেন মানুষ ভুলে গেছে। নানা বন্ধুর পথ পেরিয়ে চলা পথের দাবীর। তার মধ্যে আসে নানা বাধা বিপত্তি, কিন্তু তা-ই বলে তো থেমে গেলে তো হবে না। বহুদিনের চলতে থাকা সমাজের সংস্কারকে সরিয়ে নতুন জায়গা দিতে সংগ্রাম তো চালিতে যেতেই হয়। তবে শেষ পর্যন্ত পথের দাবী কতটুকু সফল, তা নাহয় পাঠকেরাই নির্ধারণ করবে।
পথের দাবীকে নিয়ে সে বছরের বর্ষপঞ্জিতে বলা হয়, বইটির প্রতিটি পৃষ্ঠায় রয়েছে রাষ্ট্রদ্রোহের উপাদান। কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার এ সম্পর্কে সরকারের চিফ সেক্রেটারিকে জানান। চিফ সেক্রেটারি বইটিকে ‘বিষময়’ বলে উল্লেখ করেন। কলকাতার পাবলিক প্রসিকিউটরও বইটিকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘উস্কানিমূলক’ বলে আখ্যা দেন। এই তিনজনের সুপারিশের উপর ভিত্তি করে করে অবশেষে ১৯২৭ সালের ৪ জানুয়ারি পথের দাবীকে বাজেয়াপ্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়।