শরৎচন্দ্রের দৃষ্টি ডুব দিয়েছে বাঙালির হৃদয়রহস্যে। সুখ-দুঃখে মিলনে-বিচ্ছেদে সংঘটিত বিচিত্র সৃষ্টির তিনি এমন করে পরিচয় দিয়েছেন বাঙালি যাতে আপনাকে প্রত্যক্ষ জানতে পেরেছে। তার প্রমাণ পাই তার অফুরান আনন্দে। যেমন অন্তরের সঙ্গে তারা খুশি হয়েছে এমন আর কারও লেখায় তারা হয়নি। ... এ বিস্ময়ের চমক নয়, এ প্রীতি। অনায়াসে যে প্রচুর সফলতা তিনি পেয়েছেন তাতে তিনি আমাদের ঈর্ষাভাজন।
শরৎচন্দ্র সম্বন্ধে এ মন্তব্য রবীন্দ্রনাথের। বাংলাভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৭৬–১৯৩৮) আজও এই সাহিত্যের জনপ্রিয়তম লেখক হয়ে আছেন তাঁর গল্পবলার নৈপুণ্য, নারীমহিমাকীর্তন, ভাবালুতা সৃষ্টির দক্ষতা ও একান্তভাবে হৃদয়াবেদন প্রকাশের গুণে। ঘরোয়া পরিবেশ ও ঘরোয়া ভাষাই বাঙালি পাঠককে তাঁর এমন ভক্ত করে তুলেছে ।
বিংশ শতাব্দীর বিশের ও তিরিশের দশকের মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজের যোগ্য প্রতিনিধি শরৎচন্দ্রের আবির্ভাব প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা মুহূর্তে, তিরোভাব দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-সূচনার প্রাক্কালে ।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৮৭৬। হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে। তিনি মতিলাল চট্টোপাধ্যায় (?-১৯০২) এবং ভুবনমোহিনী দেবী (?-১৯৮৫)-এর প্রথম পুত্ৰ ।
১৮৮৬ সনে শিশু-শরৎ দাদামশায়ের সুবাদে বাবা-মায়ের সঙ্গে ভাগলপুরে যান। বাবার মৃত্যুর (১৯০২) পর ১৯০৩ সনে ভাগ্যান্বেষণে বর্মা যাবার আগে মাস-চারেক কলকাতায় কাটান। বর্মায় রেঙ্গুন, পেগু ও লাঙ্গলবিন শহরে কিছু ঘোরাঘুরি ও চাকরি করার পর ১৯০৫ থেকে ১৯১৬-র এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি চাকুরিসূত্রে রেঙ্গুন থাকেন ।