"পথের পাঁচালী" বইটির ভূমিকার অংশ থেকে নেয়া:
পথের পাঁচালীর পুরাে পথই নিসর্গ-প্রকৃতি পরিবেষ্টিত এবং মানব-সংশ্লিষ্ট। প্রকৃতি সাহিত্যের একটি প্রধান উপাদান হয়েছে বিশ্ব জুড়েই। ভিনদেশী উদাহরণ না দিয়েও বলা যায়, প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যে, কেবল যদি সংস্কৃতকেই ধরি তবুও, প্রকৃতি এর একটি বিরাট অংশ জুড়ে আছে। কেন, ক্ষুদ্রাবয়বের সেই মেঘদূত? প্রকৃতির অন্যান্য অনুষঙ্গের কথা না-ই ধরলাম, শুধু মেঘকে বাদ দিলে মেঘদূতে কিছু থাকে? ওটা নামে মেঘ, আসল তা মেঘাকৃতি বিশিষ্ট জীবনের স্পন্দন একটি সচল ও সজীব চরিত্র।
সেই কবে কালিদাসের কাল কেটে গেছে সত্যি, কিন্তু জীবন ধারণের মৌলিক চাহিদার হেরফের হয় নি, বােধহয় হয় না। পৃথিবীর সেই আদি থেকে প্রকতি যেমন মানবজীবনে অবিচ্ছেদ্য ছিল, এখনাে আছে, থাকবে। শুধু এমনিতেই থাকবে না, যেন থাকে সেজন্য আপ্রাণ চেষ্টাও চলেছে মানুষের। এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘ ঘােষিত বিশ্ব পরিবেশ রক্ষার যে আন্দোলন সে কথা স্মরণ করা যেতে পারে। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় তার অধিকাংশ উপন্যাসেই এই প্রকৃতিকে অবলম্বন করেছেন দৃঢ়ভাবে, নির্মাণ করেছেন একটি পুরাে সত্তাকে। পথের পাঁচালী তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। একবিংশ শতাব্দীর এই যুগ-সংকটের দিনে প্রকৃতি-প্রীতিতেই তিনি সর্বাধিক মনন ও মেধা ব্যয় করলেন।