বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠতম রচনা পথের পাঁচালী। এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। গ্রন্থটি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মন্তব্য করেছিলেন, ‘বইখানা দাঁড়িয়ে আছে আপন সত্যের জোরে।’
পথের পাঁচালী উপন্যাস হলেও পড়ার সময় একটিবারের জন্যও মনে হয় না এটা উপন্যাস। বরং লেখকের স্বচ্ছ-সাবলীল ভাষায় গ্রামবাংলার বাস্তব ও জীবন্ত ছবিরই একটি সহজ-স্বাভাবিক রূপ আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে। উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে নিশ্চিন্দিপুর গ্রামের সর্বজয়া ও হরিহর পরিবারকে কেন্দ্র করে। এ পরিবারে দুটি সন্তান রয়েছে, একটি কন্যা সন্তান, নাম দুর্গা; অপরটি পুত্র সন্তান, নাম অপু। এই অপু এবং দুর্গার শৈশবকালকে নিয়ে এ উপন্যাসের কাহিনি একটি শিল্পিত পরিণতি লাভ করেছে। দুর্গা ও অপুর চোখে প্রকৃতির বিস্ময়ভরা সৌন্দর্য লেখক এ উপন্যাসে তুলে ধরেছেন। নানান অভাব-অনটনের মাঝেও যখন দুই ভাইবোনের আদর-ভালোবাসা, মান- অভিমান, দুষ্টুমি-খুনসুটির মধ্য দিয়ে জীবন এগিয়ে যাচ্ছিল, তখনই বৃষ্টিতে ভিজে দুর্গার জ্বর হয় এবং চিকিৎসার অভাবে মারা যায় সে। জীবিকার সন্ধানে পরিবারের বাকি তিন সদস্য কাশীর পথে যাত্রা শুরু করে। সেখানে অপুর বাবার মৃত্যু হলে মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু অপুর মন পড়ে থাকে নিশ্চিন্দিপুরে।