রবীন্দ্রনাথের এই শ্রেণীর নাটকগুলি বাংলা সাহিত্যে এক অভিনব সৃষ্টি। রবীন্দ্র- পূর্ববর্তী যুগে এই শ্রেণীর নাটক বাংলা-সাহিত্যে ছিল না, সমসাময়িক যুগেও ছিল না, পরবর্তী যুগেও এই শিল্পরীতি কেহ অনুসরণ করেন নাই। হয়তো নাটকে বস্তুনিষ্ঠ রসের দাবী প্রাধান্য লাভ করায় মানুষের রুচি বাস্তবের পক্ষপাতী হইয়াছে, হয়তো বিজ্ঞান-সম্মোহিত, কঠোর-বাস্তব-জর্জরিত আধুনিক মানুষের নিকট অতীন্দ্রিয়, আধ্যাত্মিক জগতের, কোনো স্বপ্নলোকের আবেদন অর্থহীন, হয়তো এমন কোনো কবি-নাট্যকার জন্মান নাই, যিনি এই দূরায়ত্ত শিল্পরীতিতে সাফল্য লাভ করিতে পারেন, হয়তো বা উভর কারণেই এই শ্রেণীর নাটকের উদ্ভব সম্ভব হয় নাই। কিন্তু পাশ্চাত্ত্য সাহিত্যে আমরা দেখি, এই শ্রেণীর নাটক ও উহার শিল্পরীতি বাস্তবের উপাসক দর্শকদিগেরও রসপিপাসা তৃপ্ত করিয়াছে এবং এইসব নাটক দীর্ঘদিন ধরিয়া নানা রঙ্গমঞ্চে অভিনীত হইয়া খ্যাতি অর্জন করিয়াছে। শিল্পীর কাজই ভাবের সুষ্ঠু, প্রকাশ। সেই প্রকাশ একটা রূপে লীলায়িত হয়।