বাংলা ভাষার সাহিত্যিকরা বারবার ঘুরেফিরে তাদের লেখনীতে নিয়ে এসেছেন ভ‚ত বা অশরীরী। প্রখ্যাত লেখকরা যেমন ভ‚তের গল্প লিখেছেন তাদের বর্ণময় সাহিত্যজীবনে, তেমনি তরুণ, সাহিত্যজগতে নব্য লেখকরা অনেক সময় ভ‚ত বা হরর জাতীয় লেখার মাধ্যমে নিজেকে পরিচয় করিয়েছেন পাঠকদের সামনে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও ভ‚ত নিয়ে লিখতে দ্বিধা করেননি, তার বেশকিছু ছোটোগল্পে রয়েছে ভৌতিক আবহ, কোনোটাতে সরাসরি ভ‚তের আগমন ঘটেছে, আবার কোনোটাতে ভ‚ত স্বয়ং উপস্থিত না থাকলেও পারিপার্শ্বিকতা ও গল্প বলার ঢংয়ের কারণে ভৌতিক আবহ তৈরি হয়েছে। তবে রবীন্দ্রনাথের ভ‚তগুলো যে গতানুগতিক ভয়ংকরদর্শন, কিম্ভ‚তকিমাকার তা কিন্তু মোটেই নয়। তিনি ভয়মাখানো ভাষায় ভ‚তকে বর্ণনা করেননি, তার চরিত্ররা ভ‚তের চেহারা দেখে অজ্ঞান হয়ে যায়নি। অনেক ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে অশরীরীকে উপস্থাপন করেছেন রবীন্দ্রনাথ। এদিক দিয়ে রবীন্দ্রনাথ একটু ফাঁক রেখেছেন, তিনি এমনভাবে তার ভৌতিক গল্পগুলো সৃষ্টি করেছেন যাতে করে সেই গল্পগুলোকে মনস্তাত্তি¡ক গল্প হিসেবেও চালিয়ে দেওয়া যায়। পাঠক চেষ্টা করলে গল্পের পেছনে একটা যৌক্তিক ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে ভ‚তকে হেসে উড়িয়েও দিতে পারেন। এখানেই রবীন্দ্রনাথের মুন্সিয়ানা। রবীন্দ্রনাথের চৌদ্দটি রহস্য গল্প দিয়ে সাজানো এ বইটি সব পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণে সক্ষম হবে।