ঝিমুনি এসে গিয়েছিল, জোর এক ঝাঁকুনিতে তন্দ্রা টুটে গেল। সোজা হয়ে বসে বাইরে তাকালাম। আঁকাবাঁকা পাহাড়ী পথে ছুটে চলেছে জীপ। সিলেট শহর ছাড়িয়ে এসেছি বহু আগে, সীমান্তের দিকে চলেছি। কোনো পরিবর্তন নেই প্রকৃতির। একটানা বহুক্ষণ ধরে একই রকম রয়েছে চেহারা। দুই পাশে গাছপালা, মাঝেসাঝে পাহড়ের কোলে চা বাগান। শুধু সামনের দিগন্তরেখার কাছে যে মেঘের মতো কালো ছায়াটা ছিল, সেটা স্পষ্ট হয়ে একটা পাহাড়ে রূপ নিচ্ছে ধীরে ধীরে।
'সামনেই অনন্তপুর, এই আর মাইল তিন-চারেক হবে,' বলল পাশে বসা ড্রাইভার করিম। বাঁ হাত স্টিয়ারিঙে। 'খুব কাছে না এলে শহরটা দেখতে পাবেন না।'
করিম বেশ স্মার্ট। লেখাপড়াও জানে। চাকরি করতে ভাল লাগে না। তাই জীপটা কিনে রেন্ট-আ-কারের ব্যবসা শুরু করেছে। 'ওই যে উঁচু পাহাড়টা দেখা যাচ্ছে, ওটার কাছে?' জিজ্ঞেস করলাম।