তখন স্কুলে পড়ি। নিয়মিত শুকতারা, আনন্দমেলা পড়তাম। গল্প, উপন্যাসগুলো পত্রিকা কেনার সাথে সাথেই পড়ে ফেলতাম। কখনো কখনো ভাইয়ের সাথে কে আগে পড়বে এই নিয়ে ঝগড়া হতো। কখনো কখনো দুজনে একসাথেই পুজোবার্ষিকী পড়তাম।
স্বাভাবিকভাবেই গল্পগুলো মনের মধ্যে ছাপ রেখে যেত। সেই বয়সে নিজের নামও ছাপার অক্ষরে দেখতে ইচ্ছে হতো। সেই তাগিদ থেকেই স্কুলবেলাতে অনেকগুলো গল্প লিখে ফেলেছিলাম। বেশিরভাগ গল্পগুলোই ‘চিরকালের ছেলেবেলা’ পত্রিকাতে ছাপা হয়েছিল।
এখন যখন পুরোনো গল্পগুলো দেখি, বুঝতে পারি, স্কুলবেলার লেখাগুলোতে সেই সময়কার পড়া গল্প, উপন্যাসগুলোর ছাপ আছে!
সেই গল্পগুলো থেকেই কয়েকটা গল্প ঝাড়াই বাছাই করে, এই গল্প সংকলনটি করা হয়েছে। গল্পগুলোর মূল চরিত্র ডোডো এবং তার মামা বিশ্বেশ্বর, ডোডোর প্রিয় বিশে মামা। ছোটবেলায় দাদুবাড়ি বেড়াতে যাওয়ার সময় যে গ্রামীণ জীবন মনে ছাপ ফেলে গেছে, গল্পগুলোর প্রেক্ষাপটে সেই ছাপ সুস্পষ্ট।
গল্পগুলো একসাথে বই আকারে প্রকাশ করার জন্য মানিকদা (চিরকালের ছেলেবেলা পত্রিকার কর্ণাধর মানিক রায়) সবসময় আমাকে উৎসাহ দিত। মানিকদাকে আন্তরিক ভালোবাসা!
গল্পগুলো নতুন করে টাইপ করার সময় সহধর্মিণী সুস্মিতা বিশেষ ভাবে সাহায্য করেছে। সে ছাড়া গল্পগুলো নতুন করে লেখার তাগিদ পেতাম না।
কলকাতা বইমেলা উপলক্ষ্যে বইটা দু’দেশ থেকেই বেরোবে। ‘চিরকালের ছেলেবেলা’ ও ‘সাহিত্য কুটির’ প্রকাশনীর সবাইকে কৃতজ্ঞতা।
আশা করি ছোট পাঠক বন্ধুদের বইটি পড়তে ভালো লাগবে।