ভর-দুপুর বেলা।
আষাঢ় মাস শেষ হতে আরো ক'দিন বাকী। আষাঢ়ের পর শ্রাবণ। তারপর ভাদ্র। অথচ এখনই আকাশে ভাদ্রমাসীয় বিচিত্ররূপ। কিছুক্ষণ আগে ছিল প্রখর রোদ। মুহূর্তে আবার আকস্মিক শোঁ-শোঁ বৃষ্টি। তরীকপাশা গ্রামের একাংশে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির ফোঁটায় মাটি একদফা ভিজে কাইয়ের মতো নরম হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি গ্রামের অন্য অংশে রোদের ঝলসানি। শুকনো খটখটে মাটি। ভ্যাপসা গরম। বায়ু চলাচল স্তব্ধ হয়ে গেছে মনে হচ্ছে। পাড়া-গাঁয়ে ঘুরতে গিয়ে নাকে এসে লাগছে পাকা তালের মনমাতানো গন্ধ। ঋতু পরিবর্তন আর কৃষকের ফসল তোলার সময়কালকে কেন্দ্র করে যে-বাংলামাস গণনা করা হয়, তাতে অনেক সময়ই বাস্তবতার সাথে গড়মিল থাকে। এবারও তাই হয়েছে বুঝি। ভাদ্রমাসের আমেজ এসে গেছে এখনই।
কোথাও কোনো শানবাঁধানো অট্রালিকা নেই। নেই ইট-পাথরের কায়কারবার। ছন-বাঁশের চালাঘর সারিবেঁধে ছড়ানো আছে সারা গ্রামজুড়ে। তাতে ছোট ছোট বাচাটি ঘরের সংখ্যাই বেশী। মাঝে চিকচিক-করা ঢেউটিনের ঘর দুটো- একটা।