মায়াবতী। এককালের উদ্ভিন্না যৌবনা তরঙ্গায়ীত নদী। এখন মৃতপ্রায় এক নদীর খোলস। মায়াবতীর কূল ছুঁয়ে যে ক্ষয়িষ্ণু গ্রাম, তার নাম সোনাঝরা। অপূর্ব সুন্দর নাম। কিন্তু এ অঞ্চলের সিংহ ভাগ মানুষগুলোর জীবন একেবারেই অসুন্দর। সারা বছরই কাটে ওদের অভাব অনটনে। এখানে ধানী জমির পরিমান নেহায়েৎ কম নয়। যতদূর দৃষ্টি চলে ততদূর শুধু দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ। কখনো তাতে বসে ধান পাট কাউন আর যবের মেলা। কখনো বা হলদে শাড়ি পরা চপলা কিশোরীর মতো শর্ষে ফুলের সমাহার।
এসব জমির বেশীর ভাগের মালিক গুটিকয়েক জোতদার। এছাড়া ছিটেফোঁটা কিছু জমির মালিকানা অল্প কিছু ছোট কৃষকের। এখানকার বেশীরভাগ মানুষ সহায় সম্বল হীন। নিঃস্ব। এক চিলতে ভিটে ছাড়া ফসলি জমি এক তিলও নেই ওদের। ওরা মজুর খাটে জোতদারদের জমিতে। সারা বছর ওদের কাজ থাকেনা। খরানে ফসলের মাঠ জ্বলে খাঁক হয়ে গেলে ওরা কাজ পায়না। এরপর বান ভাসিতে যখন ডুবে যায় সম্পূর্ণ চরাচর, তখনও একই দশা। এছাড়া প্রত্যেকটি সংসারেই খাবার মুখ অনেকগুলি।