ইরানের সোনালি যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনীষী ওমর খৈয়াম। তিনি একাধারে কালজয়ী কবি, অনন্য গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ ও দার্শনিক। গণিত আর বিজ্ঞানের কঠিন জগতের বাসিন্দা হয়েও তাঁর ভেতরে বাস করত এক অপরূপ ও সংবেদনশীল কবি-আত্মা। আর সেই আত্মারই অবিনশ্বর প্রকাশ তাঁর বিশ্বখ্যাত কাব্যসংকলন ‘রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম’।
বিজ্ঞানী ও দার্শনিকের প্রখর যৌক্তিক দৃষ্টি দিয়ে তিনি অনুধাবন করেছেন জীবনের গতিময়তা, মানুষের সীমাবদ্ধতা আর মহাকালের অনিবার্য নিয়মকে। চার লাইনের একেকটি ক্ষুদ্র কবিতা বা ‘রুবাই’-এর ভাঁজে ভাঁজে তিনি লুকিয়ে রেখেছেন জীবনের গভীর দর্শন, প্রেম, আনন্দ আর পরম পরিণতির রোমাঞ্চ।
“মহাকালের অতল গহ্বরে মানুষের জীবন যেন এক ক্ষণস্থায়ী বুদবুদ- তাই এই ক্ষণিকের জীবনকে ভালোবাসায় ও আনন্দে উপভোগ করাই শ্রেয়।” — এই শাশ্বত সত্যই দার্শনিক বিভায় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে তাঁর প্রতিটি চরণে।
হৃদয়স্পর্শী ও মনোমুগ্ধকর এই অনুবাদ গ্রন্থটি খৈয়ামপ্রেমী যেকোনো বিদগ্ধ পাঠকের জন্য হয়ে উঠবে এক পরম তৃপ্তির খোরাক। জীবনের শুরুর উন্মেষ থেকে শেষের অনিবার্য পরিণতি পর্যন্ত- মানুষের অস্তিত্বের সবটুকু দোলাচলকে নতুন করে আবিষ্কার করতে আজই ডুব দিন খৈয়ামের এই জাদুকরী কাব্য-জগতে।