রুশ সাহিত্যের সোনালী যুগের পাঁচজন বিখ্যাত সাহিত্যিক-আলেক্সান্দার পুশকিন, নিকোলাই গোগল, লিও তলস্তয়, আন্তন চেখভ আর ম্যাক্সিম গোর্কি। এরা সবাই বিশ্ব সাহিত্যের এক একজন দিকপাল লেখক। বাঙালী পাঠকের কাছেও তারা সুপরিচিত। তাদের বাছাই করা পাঁচটি গল্প নিয়ে রচিত হয়েছে 'রুশ ছোটগল্প'। পুশকিনের 'ইস্কাবনের বিবি' প্রেম ভালোবাসা আর লোভের অবিস্মরণীয় এক ককটেল। গোগলের 'ওভারকোট' ট্র্যাজি-কমিক গল্প। এই গল্পের বিষয়ে দস্তয়েভস্কি একটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন আমরা সবাই গোগলের 'ওভারকোট' থেকে বের হয়ে এসেছি। তলস্তয়ের 'ক্ষমা' দাম্পত্য জটিলতার করুণ কাহিনী। চেখভের 'মহিলা মহল' গল্পে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির যে চিত্র দেখা যায়, তা বাংলাদেশের জন্যও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সবশেষে ম্যাক্সিম গোর্কি। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম, তাদের তরুণ বয়সে ম্যাক্সিম গোর্কির 'মা' উপন্যাসটি ছিল খুব সহজলভ্য আর অবশ্য পাঠ্য একটি বই। 'মা' উপন্যাসের পাভেল আর তার মায়ের সংগ্রাম আমাদের অনুপ্রাণিত করেছিল দারুণভাবে। 'চেলকাশ' নামে গোর্কির বিখ্যাত ছোটগল্পটিকে এই গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শরৎচন্দ্রের 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসে দেখা যায় ইন্দ্রনাথ আর শ্রীকান্ত রাতের বেলা জেলেদের মাছ চুরি করতে গিয়েছিল। গভীর রাতের গা ছমছম সেই অভিযানের সঙ্গে 'চেলকাশ' গল্পের অনেক মিল আছে। চেলকাশকে মনে হয় যেন দুঃসাহসী ইন্দ্রনাথ আর ভিতু গ্যাব্রিয়েল যেন রাশিয়ান এক শ্রীকান্ত।