কোস্তিয়াকে বিদায় দিতে এলেন তার মা, সেইসঙ্গে লিওল্কা। মা আসার মানেটা না হয় বোঝা গেল। কিন্তু লিওল্কা? লিওল্কা কেন? মা তাকে বাড়িতেই রেখে আসতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সে এমন পরিত্রাহি কান্না জুড়ে দিল যে তাকে সঙ্গে নিতে হল। কোস্তিয়াকে বিদায় দিতে যাওয়া অবশ্য নয়, তার কাছে বেশি মজার ছিল জেটি আর স্টিমার দেখা। কেউ তাকে বিদায় দিতে আসে এটা কোস্তিয়ার ভারি দরকার পড়েছিল। তায় আবার লিওল্কার লিওলকার মতো কেউ! সঙ্গী ছেলেরা, বিশেষত প্রাণের বন্ধু, লড়িয়ে ছেলে ফিওদর হলে না হয় একটা কথা ছিল। কিন্তু বন্ধু ফিওদর নেই, গতকাল সন্ধ্যাবেলায়ই সে তার বাবার সঙ্গে মাছ-শিকারে চলে গেছে ওস্তিওরে। প্রত্যেক শনিবার ওরা ওখানে যায়। কোস্তিয়া কতবারই না মাকে ধরাধরি করেছে ওদের সঙ্গে যাবার অনুমতি চেয়ে, কথা দিয়েছে পুরো একটা বালতি ভর্তি মাছ নিয়ে আসবে, কিন্তু মা ওকে ছাড়েন না, বলেন মাছ তো বাজারেই কিনতে পাওয়া যায়। আসলে তাঁর ভয়, কোস্তিয়া বুঝি জলে ডুবে যায়। সে ডুবতে যাবে কেন? ক্লাস ফাইভের 'বি' সেকশনে সে সবার চাইতে ভালো সাঁতার কাটতে পারে।