শারদীয়া পূজা।
বাংলার ঘরে ঘরে আনন্দের ঢেউ। কত মন্বন্তর, মহামারী ছাপিয়েও এ আনন্দের স্রোত বাংলার গ্রামে গ্রামে প্লাবন এনেছে, চিরদিনই আনে। খাদ্যে রেশন; কাপড়ের কনট্রোল, কর্মে ছাঁটাই, তবুও বাঙালি মহাপূজার আয়োজনে ব্যস্ত।
মহেন্দ্র কিন্তু কিছুই করতে পারলো না। বাড়িতে অন্ধ দাদা, অসুস্থ বৌদি আর একমাত্র ভ্রাতুষ্পুত্র খোকন, এই তিনটি মাত্র প্রাণীর জীবনে নিতান্ত তুচ্ছ একটা মাটির প্রদীপের আলোও সে জ্বালাতে পারলো না, নিরাশ হয়ে ফিরে এলো, মহেন্দ্র শুধু খোকনের জন্য একটা পাঁচসিকের সূতীর জামা কিনে।
ওতেই আনন্দ হয়তো উথলে উঠতো বাড়িতে, কিন্তু খোকার শরীর ভালো নেই, ওদের নয়নের জ্যোতিটুকু মলিন হয়ে উঠলো। সপ্তমীর দিন একটু ভালো থাকলো খোকন, অষ্টমীর দিন কাকার গলা জড়িয়ে বললো?
কলকাতা যাবে না কাকু? কলকাতা!
কেন রে মানিক?
সেই যে তুমি বলেছিলে, কলকাতায় কে তোমার কাকা আছে তার ঘরে হাতি থাকে। 'ও হ্যাঁ যাব, কালই যাব।' বলে কবেকার বলা বিস্তৃত কথাটা একবার মনে করল মহেন্দ্র। যেতে হবে, শেষ চেষ্টা একবার করবে সে।