মুকুট তলিয়ে যাচ্ছে। যতই ভেসে থাকার চেষ্টা করছে ততই শক্তি কমে আসছে, ঢেউয়ের ধাক্কায় ক্রমশ সাগরের গভীরে ডুবে যাচ্ছে। ভেসে থাকার কৌশল মুকুট ভালোই জানে, ছাত্রজীবনে সাঁতারে বরাবরই প্রথম হতো কিন্তু এখন কোনো কৌশল কাজে আসছে না। মুকুট হাল ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। মৃত্যুর আগে সবাই যেমন ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। মৃত্যু আর দেরি নেই। মনে পড়ে যায়- মায়ের কথা, বাবার কথা, বিশাল সম্পদ আর আনন্দময় জীবনের কথা, গবেষণার কথা, আবিষ্কারের কথা এবং নববধূ আল্পনার কথা। কিন্তু অন্তহীন ঢেউয়ের এসব নিয়ে ভাবার কোনো ফুরসৎ নেই। সাগরের কাছে মুকুট যা, গাছ থেকে ঝরে-পড়া একটা শুকনো খরকুটোও তা। ঢেউ আর স্রোত মুকুটকে তুচ্ছ তৃণখণ্ডের ন্যায় ভাসিয়ে নিয়ে আরও গভীরে মিশে যাচ্ছে। কণ্ঠ দিয়ে কোনো আওয়াজও বের হচ্ছে না।