সেবারই প্রথম। সেবার রাশিয়ায় গিয়েছিলাম ছাত্র হিসেবে, লেখাপড়া করতে, কিন্তু এয়ারপোর্টে নেমেই নজরবন্দী হয়ে আমাকে কাটাতে হয় তিন দিন। অ্যারোফ্লোটের সেই ফ্লাইটে আমরা ছিলাম মোট আটাশ জন ছাত্র। সবাই তরুণ, আঠারো থেকে বিশ বছরের মধ্যে বয়স সবার। বারো অগাস্ট সকালে আমাদের প্লেনটা নামলো মস্কোর শেরেমিয়েতোভো এয়ারপোর্টে। ইমিগ্রেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। লাইন একটু একটু করে এগোচ্ছে। একে একে পার হয়ে যাচ্ছে আমার বন্ধুরা ইমিগ্রেশনের সিল-ছাপ্পড় নিয়ে। গোল বাধলো আমার বেলায়। কাঁচঘেরা উঁচু একটা বাক্সে বসে ছিল ইমিগ্রেশন অফিসার। সবুজ ইউনিফর্ম তার গায়ে, মাথায় সবুজ ক্যাপ। তার কাছে পাসপোর্টটা দেওয়া মাত্র ভুরু কুঁচকে কিছুক্ষণ সেটা দেখলো অফিসার- পাতা উল্টে উল্টে। তারপর প্রশ্ন করলো, নাম? 'দীপক মাহমুদ।' আমার সামনের লোহার গেটটা ঘটাং শব্দে বন্ধ হয়ে গেল। চমকে উঠে তাকালাম অফিসারের মুখের দিকে। বুঝতে চেষ্টা করলাম কী হয়েছে, দরজা কেন বন্ধ হলো? হাতের ইশারায় অফিসার আমাকে সরে দাঁড়াতে বললো। মুখটা তার রাগি রাগি।