এখন বিকেল। হালকা বাতাস বইছে, নদীতে ছোটো ছোটো ঢেউ। নৌকা পাড়ে থাকতেই দুলতে শুরু করেছিল। মাঝ নদীতে আসার পর অবশ্য দুলুনিটা আরও বেড়েছে। পারুল ভয়ে জড়সড় হয়ে বসে আছে। মবিন সাহস যোগাচ্ছে, ভয়ের কিছু নেই এ তো সামান্য ঢেউ। যখন ঝড় ওঠে তখন এ নদীতেও অনেক বড়ো বড়ো ঢেউ হয়। ছোটোখাটো নৌকা অনেক সময় উল্টে যায়। সে তুলনায় এখন তো কোনো ঢেউ-ই নেই। একটু পরে মবিন বলল, ওই তো ঘাট দেখা যাচ্ছে। আমরা ঘাট থেকে ইঞ্জিন চালিত রিকশা-ভ্যান নিয়ে শিলাইদহ চলে যাব। বেশি সময় লাগবে না মাত্র নয় কিলোমিটার পথ। এতক্ষণে পারুলের ভয় কিছুটা কমেছে। বরং নৌকার দুলুনিটা ভালো লাগছে এখন। সূর্যটা দূরে গাছের আড়ালে হেলে পড়েছে। সূর্যের লালছে আলো বিচ্ছুরিত হয়ে পড়েছে গড়াই নদীর বুকে। তীর্যক আলো ছোটো ছোটো ঢেউয়ের ওপরে আছড়ে পড়ে ঝিকমিক করে জ্বলছে। দৃশ্যটা আসাধারণ লাগছে পারুলের কাছে। মাঝ নদীতে এসে মনে হচ্ছে নৌকার গতি অনেক কমে গেছে। পারুল আর মবিন মুখোমুখি। বৈঠায় পানি ভাঙার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আসছে ওদের কানে।