সিমুল্যাক্রা
শহরে, নতুন দৃশ্যের আশা তুমি করোনা৷
না৷ এরকম আজকাল হয় না,
শতাব্দীকে আমরা
এতো ছোটো করে ফেলেছি যে,
একটি নতুন দৃশ্যের জন্য
এখন তা আর যথেষ্ট নয়৷
সহস্রের প্রয়োজন হয়৷
আসলে দৃশ্যরা মারা গেছে,
ক্যামেরা আবিষ্কারের দিন।
এখন আছে শুধু ছবি৷
আর, ছবি মাত্রই শীতল৷
ছবির শীতলতা মাপার কোনো
থার্মোমিটার নাই৷
ছবির হিম মাপতে যেও না তুমি৷
থার্ড রাইখ পতনের ছবির শীতলতা
তুমি কীভাবে মাপবে?
ফেরেনহাইটে পেট্রোগ্রাড সারাবছর
মাইনাস চল্লিশ ডিগ্রি৷
মানুষের মৃত্যু যন্ত্রণায় আউশভিৎজ উত্তপ্ত,
অথচ, মাপতে গেলে সেটারও মান ছবিতে
শূন্যের নিচেই৷
ছবির হিম মাপতে যেও না, কারণ-
এটা শীতকাতর হৃদয়ের মতো৷
অবিরাম ঘুরতে থাকা শব্দহীন
ক্যাসেটের ফিতার মতো
সময়কে বয়ে যেতে দেখো তুমি৷
তোমার মনে হয় কেউ একজন এসে
কর্কশ শব্দ তুলে থামিয়ে দেবে ক্যাসেটটাকে৷
তুমি জুতোর দোকানের ক্যাশিয়ারের
দিকে তাকাতে চাওনা,
বরং জুতোর দিকেই তাকিয়ে থাকতে চাও।
কারণ সে কী করতে যাচ্ছে
তা তোমার আছে জানা৷
কিন্তু, অন্য দিকে তাকানোর উপায় আছে কি?
তুমি আটকে গেছো
পজ মেশিন, এলগোরিদমের ফাঁদে৷
মুখের বদলে জুতো এখন তোমার বেশি প্রিয়৷
তাই, তুমি একটা সুপার-শপের ফ্লোরে,
হেঁটে যাওয়ার সময়,
অ্যামোলেড স্ক্রিনে দেখে ফেলতে চাও
ফিলিস্তিন।
তোমার মনে হয় ফিলিস্তিন হলো একমাত্র ধ্বংসস্তুপ
যাকে আমরা ভালোবাসি৷
ছবির হিম মাপতে যেও না!
তুমি একটা ধ্বংসস্তুপকে ভালোবাসো,
কারণ এটা প্রাচীন ও বিশ্বাসযোগ্য৷
অ্যান্টিক, রাস্টিক— অথেন্টিক৷
হাইওয়ে পেছনে ফেলে যখন বাড়ি ফেরো তুমি,
তখন তোমার মনে হয়:
আজকাল ধ্বংসই কেবল নতুন দৃশ্যের জন্ম দেয়৷