এই উপন্যাস সময়ের হিসাবে জীবিত মানুষের গল্প। এর অনেক চরিত্রই ঐতিহাসিক। কিন্তু যেহেতু তারা উপন্যাসিকের ইচ্ছার অধীন সেহেতু তারা শিল্পরসে সমৃদ্ধ। তত্ত্বেও।
ইতিহাস শিল্পরসের ধার ধারে না। ইতিহাসে সংলাপ থাকে না। ইতিহাসে চরিত্রের মন-বীক্ষণ, মন-বিশ্লেষণ, পরিবেশ বা প্রকৃতির বর্ণনা থাকে না। ঐতিহাসিক ব্যক্তির কীর্তির বর্ণনা থাকে। কিন্তু এই উপন্যাসে ব্যক্তির চরিত্র সংলাপে আর নিজস্ব মনস্তাত্তিক অবস্থা বর্ণনায় গুঢ় গভীর।
ইতিহাস এবং উপন্যাসের দ্বন্দ্ব নাই। পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া চরিত্রগুলাকে লেখক টুকিয়ে নেন। তারপর তাতে রক্ত মাংস মন বুদ্ধি মেধা আবেগ যুক্তি আরোপ করেন। চরিত্র নির্মাণ করেন। ঘটনা নির্মাণ করেন। তা ঠিক। এই উপন্যাসের চরিত্রগুলাতে এর সবই আরোপ করা হয়েছে কিন্তু সময়কালের হিসাবে নিজস্ব কীর্তি থেকে সরিয়ে আনা হয়নি। বেশ কিছু চরিত্র যার যার অতীতের অবস্থানে আছেন কিন্তু বাকি চরিত্র উপন্যাসের সময় হিসাবে বর্তমানে অধিষ্ঠিত।