বিশ শতকের আশির দশক বাংলাদেশের কবিতা ও কবিদের জন্য এক টালমাটাল সময়। দেশে জারি আছে সেনাশাসন, সিংহাসনে জেনারেল এরশাদ। নির্লজ্জভাবে কবিখ্যাতি পেতে ব্যাকুল এহেন একনায়কের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে দেশবাসী, বেশিরভাগ কবিই দাঁড়াচ্ছেন নিপীড়িত মানুষের পাশে। বিপরীতে সংখ্যায় অল্প হলেও কিছু কবি আবার স্বার্থের খাতিরে নতজানু। দুই পক্ষই একদা ছিলেন পরস্পরের বন্ধু। কিন্তু সময় বড় নির্মম, মতাদর্শের ফারাক বিচ্ছেদকেই অনিবার্য করে তোলে। সরকারি দৈনিকের বড় পদের চাকরি ত্যাগ করে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রধান পুরুষ হয়ে ওঠেন শামসুর রাহমান; জনপরিসরে তিনিই তখন কবিতার সম্রাট। বখতিয়ারের ঘোড়ায় চেপে দূর অজানায় রওনা দেন নিঃসঙ্গ আল মাহমুদ। প্রবাসে শহীদ কাদরী একাকী, বেদনাবিধ্বস্ত দর্শক। ‘খোলা কবিতা’ লিখে রাষ্ট্রযন্ত্রের রোষানলে পড়েন মোহাম্মদ রফিক। দ্রোহ ও প্রেমের আগুনে উদ্দীপ্ত অগণিত তরুণ কবি। গঠিত হয় জাতীয় কবিতা পরিষদ, মুক্তিকামী কবিদের লড়াই ধীরে ধীরে পরিণতি পায় জনতার সংগ্রামে। বিদ্রোহের আবহে কবিদের জীবনে নতুন প্রেম আসে কিংবা বিচ্ছেদের মুখোমুখি হতে হয় তাঁদের। রাষ্ট্র-রাজনীতি-রাজপথ উথালপাথাল, কবিদের ব্যক্তিজীবনও অস্থিরতায় আক্রান্ত। তাঁরাও কি ক্রমশ হয়ে উঠছেন একে অপরের ক্ষতবিক্ষত প্রতিদ্বন্দ্বী? স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম ঘটনাবহুল একটি পর্ব উঠে এসেছে এই উপন্যাসে।
-মুহিত হাসান