নারায়ণী নদীর রূপালী ঢেউ-এ এখন আর উচ্ছলতা নেই। হাজার হাজার সাদা মুক্তোর মতো নুড়ি পাথরের ওপর শান্ত পানির স্বচ্ছ ছায়ার আবরণ। ঘাটের পাশেই বিরাট কালো হাতির মতো পাথর খন্ডের ওপর বসে দিবাকর শ্রেষ্ঠা। বিরাট অশথগাছের নীচে শেষ বিকেলের ম্লান রোদের তিরতির ছায়া। নদীর ঘাটের কাছেই একটি শবদেহের সদ্য পোড়ানো ছাই কালো হয়ে আছে। নারায়ণগড়ে এখন সন্ধ্যা হয় হয়। আধো-আলো আধো অন্ধকারে সেই চিতার আগুনের হালকা লাল আভা যেন গোধূলির আকাশের আবীর রঙের সাথে মিশে গেছে।
কাঠমান্ডু থেকে প্রায় কয়েক মাইল দূরে নারায়ণ গড়ের মানুষের ধারণা এই নদীর পাড়ে দাহ করলে নাকি স্বর্গে যায় পবিত্র দেহটা। তাই যুবতী বউটির লাস সেই পাল্লা গ্রাম থেকে নিয়ে এসেছে। ছোট্ট দশ বছরের ছেলেটি কাঁদছিলো আর নিরীহ চেহারার স্বামীটি স্থির হয়ে স্ট্যাচু হয়ে বসেছিল মাটিতে হাঁটু গেড়ে। আর গুটি কয়েক আত্মীয়-স্বজন ছিল সাথে। লাল পাড় হলুদ শাড়ী পরা সিঁদুর মাখানো ফুট ফুটে বউটি ধীরে ধীরে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেলো চোখের নিমিষে। সবাই চলে গেলো একে একে। কোথায় যায় দেহ-আত্মা।