বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠতম লেখকদের একজন সৈয়দ মুজতবা আলী, এই নিয়ে সম্ভবত তাঁর চূড়ান্ত নিন্দুকেরও সংশয় নেই। দেশে বিদেশে, চাচা কাহিনী, শবনম ইত্যাকার অমর গ্রন্থের লেখক হিসেবে সবাই তাঁকে চেনেন। আজো তাঁর বই বছরে লাখ লাখ কপি বিক্রি হয়। মুজতবার মৃত্যুর পর কেটে গেছে বেশ কিছু বছর, কিন্তু আজো তাঁর তুমুল পাঠকপ্রিয়তা অটুট রয়েছে সমানভাবে। ভ্রমণকাহিনি কি প্রবন্ধে, রম্যরচনায় কি ছোটগল্পে- তাঁর মতো বহুমাত্রিক ‘জিনিয়াস’ বাংলা সাহিত্যের ক্ষেত্রে খুব কমই দেখা গেছে আজতক। তবে লেখক মুজতবা আলীকে সাধারণ বাঙালি পাঠক যতটা চেনেন, তাঁর জীবন সম্পর্কে ঠিক ততটা তাঁরা জানেন না বলেই প্রতীয়মান হয়।
তাই লেখক ও সর্বোপরি মানুষ মুজতবাকে বুঝবার লক্ষ্যে এই জীবনীগ্রন্থটি রচিত। এখানে তাঁর জীবনের নানা উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ড, যেমন শিক্ষাজীবন কি কর্মজীবনের বিবরণ যেমন আছে, তেমনি আছে লেখালেখির খবর। মিলবে তাঁর জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার নেপথ্যকাহিনিও। আঠারোটি অধ্যায়ে তাঁর জীবনের প্রধান প্রধান ঘটনাগুলো সহজ ভাষায় বিবৃত করার চেষ্টা করা হয়েছে; মূলত সাধারণ পাঠকদের কথা মাথায় রেখে। এছাড়া পরিশিষ্ট হিসেবে রয়েছে মুজতবা আলীর সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জি ও তাঁর লেখা বইয়ের তালিকা। সংক্ষিপ্ত কলেবরে এই বই মুজতবা জীবনের পূর্ণ রূপরেখা তুলে ধরতে সক্ষম, এমনটা বললে অত্যুক্তি হবে না।