একটু আগেই শুরু হয়েছে রাতের শিফটের কাজ।
কারখানার প্রাঙ্গণে দু'রঙা বিজলি বাতি জ্বলে উঠেছে। চারদিকে মহাব্যস্ত ভাব। পাইপ থেকে হিসিয়ে হিসিয়ে সাদা সাদা বাষ্প বাতাসে উঠে যাচ্ছে আকাশের দিকে। শীতে জমে যাওয়া সন্ধ্যার আকাশ ও প্রকৃতি হয়ে উঠেছে গাঢ় নীলাভ ও ধূসর কুয়াশাচ্ছন্ন। চারপাশে পাইপের জোটে ধাতুর প্যাচ মোড়া উঁচু উঁচু তেলের খাস্তাগুলো দাঁড়িয়ে রয়েছে। কুয়াশার ভেতরে অনেকটা দেখাচ্ছে কামানের নলের মতো আকাশের দিকে তাক করে রাখা। সন্ধ্যার স্তব্ধতা ভেঙে নদীর চার নম্বরের ঘাট থেকে ভেসে আসছে ট্যাঙ্কারের ভোঁ ভোঁ আওয়াজ।
দেখতে দেখতে কারখানাটা জীবন্ত হয়ে উঠেছে। শ্রমিকেরা ছুটাছুটি করছে- যে যার ডিপার্টে যাচ্ছে দ্রুত পা চালিয়ে। শরাফী অফিসের বারান্দায় দাঁড়িয়ে সমস্ত পরিবেশটা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে। মনের মধ্যে একটা চাপা উত্তেজনা। একটা অসন্তোষ মাথার মধ্যে ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকাচ্ছে।
গতকাল দুই নম্বর ডিপার্টের কাজ ঠিকমত চলেনি। আজকেও তিন নম্বরে আরেকটা ফ্যাকড়া উঁকি মারছে। মনের মধ্যে একটা দুর্ভাবনা।