খরায় খরায় চৌচির হয়ে যাওয়া বারো বছরের মরুময় সংসারে দৈবক্রমেই যেন বাবা হতে চলেছে চাঁদমিয়া। গোলপাতায় ছাওয়া জীর্ণ কুটিরে শুয়ে প্রসব বেদনায় লুটোপুটি খাচ্ছে চাঁদনী। পাশের বাড়ির খালা তার ধাত্রীবিদ্যার সবটুকু জ্ঞান উজার করে দুটি প্রাণ বাঁচাতে প্রাণান্ত চেষ্টা করে চলেছে।
নবজাতকের কান্না শুনতে দুয়ারে অধীর আগ্রহে পায়চারী করছে চাঁদমিয়া। হঠাৎ বাতাসে ভেসে আসে ওয়া ওয়া কান্নার রোল। শিশুটি উচ্চকিত ধ্বনিতে জানান দেয়, এ পৃথিবীতে তার আগমনী সংবাদ।
নবজাতকের কান্না শুনে চমকে ওঠে চাঁদমিয়া। বাবা হতে পেরে গর্বে বুকটা ভরে ওঠে তার। খানিক পরে খিড়কি খুলে নবজাতককে কোলে নিয়ে শুকনো মুখে বেরিয়ে আসে ধাত্রীখালা। তার কপালে কুঞ্চিত রেখায় হতাশার চিহ্ন। নবজাতককে চাঁদমিয়ার কোলে তুলে দিতে দিতে ধাত্রীখালা বলে, — মনডারে শক্ত হরো বাবা। অনেক কষ্টে তোমার পোলা বাঁচাইছি। বাবা। অনেক বউডারে বাঁচাইতে পারলাম না।