হাতে লেখা একটি চিঠি এসেছে শোভনার নামে। চিঠি মানে পোস্টকার্ড। বিদ্যালয়ে ভর্তি হবার সময় বাচ্চাদের যেরকম এলোমেলো হস্তাক্ষর হয়, সেরকম। অ-আ-ক-খগুলো বেশ হৃষ্টপুষ্ট। তাকালে যে কারও হাসি পেয়ে যাবার কথা। 'আপনে কি বাপ-দাদার গ্যারামে যান নাকি ঢাকায় পইড়া থাকেন? গোলাম রব্বানিরে চিনেন, সে কেডা? ইতি আমি।'
আর কোন কথা নেই। এটুকু লিখতেই পোস্টকার্ডটির এপিঠ-ওপিঠ শেষ। কোথাও এতটুকুন জায়গা খালি পড়ে নেই। এসএমএস, ই-মেইল, ভাইবার, স্কাইপ, হুয়াটস-অ্যাপ-র যুগে এরকম দু- চারটা কাপজের চিঠি ওর বেশ লাগে। চিঠিগুলোর সঙ্গে লেগে থাকে আবেগের আতিশয্য; পড়তে গিয়ে সে এক-একটি ভিন্ন মানুষকে আবিষ্কার করে। কল্পনায় আঁকা হয়ে যায় তাদের মুখ। গরম চা, পত্রিকা আর সেই সঙ্গে এইসব বনেদী চিঠিগুলো শোভনার কর্মময় টেলিভিশন-অফিসের সকালবেলাটা আনন্দময় করে ভোলে- তাতে কোন মঞ্চেত নেই।