'কন্যা তুমি হও গহীন গাঙ
আমি ডুইবা মরি'
আবেগময় সৈকত কবিতায় মগ্ন। কাশবন তখন হাজারো চড়ুই পাখির প্রণয়ে মুখরিত। জনমানবহীন গভীর কাশবনে প্রবল প্রেমে আমরা দু'জন নিমজ্জিত। দিন যায়, নদীতে ভাসিয়ে সুখের সাম্পান। আলটপকা গিরগিটির মতো রঙ বদলায় সৈকত। নতুন রূপে প্রতিভাসিত।
দীর্ঘ বছর পর আমি সৈকতের মুখোমুখি। ইনিয়ে বিনিয়ে ও ক্ষমা চায়।
'সৈকত, এত বছর পর আমি তোমার মুখোমুখি কেন হয়েছি তুমি ভালো করেই জানো। তোমার দুঃখ জাগানিয়া গান শোনার জন্য নয় নিশ্চয়।
সৈকতের মাথা অবনত। ঘোলাটে সার্সি দিয়ে আমি আকাশ দেখি।
উপন্যাসের একপর্যায়ে অবন্তী তার প্রিয় শহর ঢাকার মায়া ছেড়ে আশ্রয় নেয় সমুদ্র, পাহাড়, অরণ্যঘেরা রামুতে।
উপন্যাসের চরিত্র চিত্রণের প্রয়োজনে তুলে আনা হয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়ের যাপিত জীবন, কৃষ্টি, সংস্কৃতি। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের যাপিত জীবন। রামুর বৌদ্ধমন্দির, জাদি, ক্যাং-সহ অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, রামায়ণ এর পৌরাণিক কাহিনী।
গভীর প্রণয়, বিচ্ছেদ, বিরহ বেদনার বিলাপ। মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন, ব্যক্তিত্বময়ী অবন্তীর ইগোবোধ, 'কাছে থেকেও দূরে তুমি' উপন্যাসটিকে ভিন্নমাত্রা এনে দিয়েছে।