আসন্ন বিপদ বুঝতে পেরে রন্টু চলে এসেছে চিলেকোঠার ছাদে। কারণ, ছাদের উপরে এইখানে এইভাবে কোনো মানুষ শুয়ে থাকতে পারে তা কেউ কল্পনাও করবে না। আজ সে এখানে এইভাবে কেন? কারণ, তার জীবনে কোনো কিছুই স্বাভাবিক ভাবে ধরা দেয় না। একে একে যখন দুই হবার কথা, তখন তা হয়ে যায় পাঁচ। রন্টু ভেবে পায় না, বাকি তিন কোথা থেকে আসে। অথবা, জীবনের যে সরল অংকের ফলাফল হবার কথা শূন্য, কেমন করে যেন তা হয়ে যায় এক। সারাটা জীবন সে সরল কথা বলে এসেছে, অথচ মানুষ সেগুলোকে নিয়ে গেছে জটিল তত্ত্বের স্তরে। তার সাধারণ কথাগুলোর যে এই অসাধারণ ব্যাখ্যা থাকতে পারে, সেটা তাদের কাছ থেকে ফিরে না আসা পর্যন্ত রন্টু বুঝতে পারে না। আর যখন সে সেটা বুঝতে পারে তখন তার আর কিছুই করার থাকে না। কেবল অনুধাবন করে তার জীবনে সব সরলই যেন গরল।