কী করতাম? তাও ঠিক করা ছিল মনে মনে। পুরোপুরি বিদায় নিতাম সাহিত্য জগৎ থেকে। সেটা ১৯৬৬ সাল, তারপর বহু বছর কেটে গেছে, লিখেছি বহু গল্প, উপন্যাস, নাটক, ছোটোদের কাহিনি ও রাশি রাশি গদ্য পৃষ্ঠা। কেউ কেউ বলছেন, আমার চেয়ে বেশি গদ্য পৃষ্ঠা এর আগে বাংলা ভাষায় আর কেউ লেখেননি। হয়ত, এই মন্তব্যে রয়েছে বিদ্রুপের খোঁচা। বেশি লেখা ও সার্থক রচনা তো এক নয়। এত গদ্যের মধ্যে কবিতা রচনাতেও একেবারে ছেদ পড়েনি। প্রতি দু বছর অন্তর প্রকাশিত হয় আমার নতুন কাব্যগ্রন্থ। লেখা ছাড়াও নানা বিষয়ে পড়াশুনো করার জন্য আমার সময় ব্যয় হয় বেশি। লেখক সত্তার চেয়েও আমার পাঠক সত্তা প্রবল। এছাড়াও আমাকে নানাবিধ সামাজিক কাজকর্মে জড়িয়ে পড়তে হয়েছে। আমার লেখার সময়, সকাল নটা থেকে বেলা একটা দেড়টা পর্যন্ত। কোনদিন ভোরবেলা লিখতে বসিনি, রাত জেগে লেখার অভ্যেসও নেই। কেউ কেউ বলেন, তুমি এত সভা-সমিতিতে যাও, এত আড্ডা দাও, এত পানাহারের আসরে তোমায় দেখা যায়, অথচ তুমি এত লেখার সময় পাও কখন? আমি মুচকি হেসে বলি, তাও তো আমি বিকেল-সন্ধে- রাত্তিরে কলম ধরি না, তাহলে আরো কত বেশি লিখতে পারতাম, বলো!