মিতু আজ খুব সকালে ঘুম থেকে উঠেছে। এত তাড়াতাড়ি সাধারণত সে ঘুম থেকে ওঠে না। প্রায় প্রতিদিন রাতে তার ছোট দুই ভাই-বোন সজল ও রিতুকে নিজ হাতে সে খাইয়ে দেয়। রাতের খাবারের পর তাঁরা ঘণ্টা তিনেক পড়াশুনা করে। তারা যতক্ষণ পড়াশোনা করে মিতু ততক্ষণ জেগে থাকে। মাঝে একবার শুধু সে চা খায়। মনোয়ারা এসে তার ঘরে দিয়ে যায়। মনোয়ারাকেই সে জিজ্ঞেস করে, দেখোতো সজল আর রিতুর কিছু লাগবে কিনা? মাঝে মধ্যে সে নিজেই যায়।
তার ভাই-বোন দুটি অত্যন্ত মেধাবী। সজল বুয়েটে আর্কিটেকচারে পড়ে। আর রিতু এবার ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হলো। সজলের বুয়েটে যেদিন ভর্তি পরীক্ষার ফল বের হয় সেদিন ভাইকে ধরে মিতু খুব কেঁদেছিল। কান্নাজড়িত কণ্ঠে সে বলেছিল আজ আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমি এই পৃথিবীর সার্থকতম বড় বোন। বাবা যদি বেঁচে থাকতেন তিনি কতো খুশিই না হতেন। বড় বোনের কান্না দেখে সজলও কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। তারা পিতৃমাতৃহীন।