বাংলাদেশে আশির দশকের অন্যতম প্রধান কবি খসরু পারভেজ। তাঁর সময়ে তিনি স্বতন্ত্র ও নিজস্বতায় অনন্য। অসত্য, অসার, অপ্রেম, অমানবিকতার বিরুদ্ধে কবিতায় তিনি সোচ্চার। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বিচরণ করলেও মনে-প্রাণে তিনি কবি। কবিতার ভুবনে তাঁর নিরিবিলি বসত।
প্রচণ্ড জীবন ঘনিষ্ঠতা, সমকালের দুঃসহ ক্ষত, প্রেম, দ্রোহ তাঁর কবিতার প্রধানতম অনুষঙ্গ। নিজের অসুখের ভেতর, নিজের শতরঙ দুঃখের ভেতর খুঁজে ফেরেন রৌদ্রমুখ, প্রলয়ের ভেতর খুঁজে ফেরেন সুস্থির সকাল, দুঃসময়ের হাটের ভেতর ছড়িয়ে দিতে চান রোদ্দুরের লিফলেট। অমানবিকতা, অসুস্থতায় ভরা যখন কবির চারপাশ, কবি তখন দ্রোহী হয়ে ওঠেন, ভেঙে ফেলেন ‘মানুষ’ নামের চিরায়ত ধরাণা।
খসরু পারভেজের কাছে কবিতা দহনের ভাষা। দহনে পুড়ে যে ছাইটুকু থাকে, সেই ছাইটুকুই কবিতা। নিজস্ব ভাষাশৈলী, কবিভাষা তাঁর কবিতাকে করেছে অন্যদের থেকে আলাদা। তাঁর কবিতা পাঠে পাঠকের মনে জাগে এক ধরনের শূন্যতা। প্রকৃতপক্ষে তা শূন্যতা নয়, আত্ম-উন্মোচন। কবির ব্যক্তিগত দুঃখ-বেদনা বিচিত্র রঙে নান্দনিক পরিভাষায় রূপান্তরিত হয় কবিতায়। সেটা তখন আর ব্যক্তিগত থাকে না, হয়ে ওঠে সমষ্টিগত। অন্ধকার, দুঃখবোধ, সমকালীন যন্ত্রণাবোধ, ক্ষরণ কবির কলমে যে ন্যারেটিভের জন্ম দেয়, তাই-ই হয়ে ওঠে পাঠকের কাছে আরাধ্য।
একজন কবির অভিঘাতময় জীবনের বাতাবরণ থেকে বেরিয়ে এসে জীবনসত্যের যে বহিঃপ্রকাশ, সেখানেই এই ‘স্বনির্বাচিত কবিতা’ হয়ে উঠবে অনন্য। কবির সমগ্র কবিতাযাপনের যে পর্যায় ও পরিণতি; তার বাকপ্রতিমাময় অন্তরঙ্গতা বাংলা কবিতার পাঠককে আক্রান্ত করবেই।