হরিশংকর জলদাসের গল্পে বিবর্ণ বিধ্বস্ত মানুষের ভিড়। বেশ্যা, হরিজন, ভিক্ষুক, জেলে, মুচি, পাগল, কোটনা, গৃহকর্মী প্রভৃতি প্রান্তমানুষের আনাগোনা তাঁর সাহিত্য-আঙিনায়। মানুষের ভালোবাসা-ঘৃণা, জিঘাংসা-রিরংসা, কৃতঘ্নতা-আহাজারি তাঁর গল্পবৃত্তান্তের প্রধান উপকরণ, উপজীব্য।
স¦র্গসুন্দরী উর্বশী গল্পগ্রন্থটিতে মানুষের রক্তপুঁজের ইতিহাস আছে, আছে অবহেলিত-রক্তক্ষরিত সমাজমানুষের জীবনচিত্র। সমকালীন মানুষ এবং পুরাণকালের মানুষ এই গ্রন্থে একই সমতলে দাঁড়িয়ে আছে। ‘ফুলিয়ার মুখুজ্জে’, ‘প্রথম পার্থ’, ‘খেলনা বাড়ি’, ‘চাঁপারানির চা-দোকান’, ‘একমুঠো মাটি’ গল্পসমূহে বর্তমান ও অতীত হাত ধরাধরি করে আছে।
হরিশংকর জলদাসের গল্পভাষায় প্রবল এক আবেশ আছে। সহজ শব্দ, সরল বাক্য তাঁর গল্পজগৎকে মোহনীয় করে তোলে। এই গল্পগ্রন্থের বারোটি নতুন গল্পে ওপরের কথার প্রমাণ ছড়ানো।