কলকাতার পুঁথিঘর প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রকাশের উদ্দেশ্যে অদ্বৈত মল্লবর্মণ (১৯১৪-১৯৫১) যখন 'তিতাস একটি নদীর নাম' (১৯৫৬) উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি জমা দেন, তখন তাঁর আকৈশোর বন্ধু ও সহচর সুবোধ চৌধুরী তাঁকে বলেছিলেন- 'মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখলেন 'পদ্মা নদীর মাঝি', আর কি তোমার বই মানুষ নেবে?' বন্ধু সুবোধ চৌধুরীর এ প্রশ্নের উত্তরে ছন্ন-ছাড়া নিম্নবর্গের ভিটে-মাটি থেকে উঠে-আসা অদ্বৈত মল্লবর্মণ বিনয়ের সঙ্গে বলেছিলেন- 'সুবোধ'দা, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বড় artist, master artist; কিন্তু বাওনের পোলা-রোমান্টিক। আর আমি তো জাউলার পোলা।' জাউলা বা জেলের সন্তান অদ্বৈত মল্লবর্মণের এই উক্তির মধ্যেই আছে জল ও জীবনের ঔপন্যাসিক প্রতিবেদন রচনার বিকল্প নন্দনসূত্র, বিকল্প বাচন এবং নিম্নবর্গের ভাবাদর্শকে শিল্পিত করার বিকল্প অঙ্গীকার। সন্দেহ নেই, নদীনির্ভর বাংলা কথান্যাসের ধারায় নানা কারণেই 'তিতাস একটি নদীর নাম' অর্জন করেছে বিশিষ্টতা আর তার জনয়িতা লাভ করেছেন নিম্নবর্গের শিল্পভাষ্যকার হিসেবে বিরল খ্যাতি।