অপরাজিতা
একটা পাখির মিষ্টি গানে আমার ঘুম ভাঙে আজ। কি পাখি? নাম জানি না। ছোট্ট পাখি। চড়ইর মতো বাদামি রঙের। কাজল কালো চোখ। আমি ওর নাম দেই চন্দনা। ধ্যাৎ চন্দনা তো এক গোত্রের টিয়া। মাথাটাই গেছে।
কলবেল বেজে ওঠে।
খাসিয়া মেয়ে লুসাই আমার রুম নক করে, ম্যাডাম চা দেব নাকি কফি?
এখানে এসো লুসাই।
লুসাই নমনীয় ভঙ্গিতে বিড়াল পায়ে, আমার রুমে ঢোকে।
জি ম্যাডাম বলুন।
ওটা কী পাখি?
কোথায় ম্যাডাম?
ঐ যে যাহ্ উড়ে গেল।
এই নির্জন এলাকায় কত রকম পাখি আছে।
সব পাখির নাম আমরা কী জানি?
উঠে বসি, হুমম, জৈন্তা হিল রিসোর্টে আমি কেন উঠি জানো?
মেঘালয়ের ঝর্ণা দেখা যায় তাই।
হুম, পাহাড় ঝর্ণা, আকাশ নদী, সচ্ছ পানির গভীর থেকে শ্রমিকদের পাথর তোলার দৃশ্য সেটাতো আছে। মনোমুগ্ধকর জৈন্তা রাজবাড়ি।
তোমাদের আচার ব্যবহারও মনোমুগ্ধকর, বিশেষ করে তুমি।
লুসাই মিষ্টি হাসে। হাসলে ওর গালে টোল পড়ে।
ধন্যবাদ ম্যাম।
যাও কফি নিয়ে এসো।
লুসাই যেভাবে এসেছিল, সেভাবে চলে যায়। সন্তর্পণে, নিভৃতে।
আমি জানালা দিয়ে আকাশ দেখি।
পৌষের স্ফটিক রোদ্দুরের সোনালি আকাশ, কুয়াশা কেটে কেবল ভোর হলো।
অনবদ্য। মনটা ভালো লাগায় ভরে ওঠে।
জাফলং-এর সৌন্দর্যে মাতোয়ারা আমি। সেই উপলক্ষ্যে জৈন্তায় ওঠা। দু'দিন হয় এসেছি। ছুটি কাটাতে। বছরে দু'বার ছুটি কাটাই, যখন যেখানে ভালো লাগে। কর্মরত হবিগঞ্জ বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডে। ম্যাকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। বুয়েট থেকে পাস করেছি। এক বোন, এক ভাইয়ের ছোট্ট সংসার। ভাইয়া, আমার বারো বছরের বড়।